
বাংলায় এবার নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির পথে একেবারে ভিন্ন রাস্তায় হাঁটতে চলেছে বিজেপি। দলীয় নেতৃত্বের ঘরে বসে ইশতেহার তৈরির বদলে, সরাসরি সাধারণ মানুষের মতামত ও সমস্যাকে সামনে রেখেই ‘সংকল্পপত্র’ রচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য বিজেপি। মানুষের কী চাওয়া, কী সমস্যা, সেই কথাই উঠে আসবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির নির্বাচনী রূপরেখায়।
শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে এই উদ্যোগের কথা জানান রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বাংলার মানুষ কী চান, কোন সমস্যায় তাঁরা জর্জরিত, সেই সব পরামর্শ গ্রহণ করেই তৈরি হবে বিজেপির নির্বাচনী সংকল্পপত্র। রাজ্যের প্রান্ত থেকে প্রান্তে মানুষের কাছে পৌঁছে তাঁদের কথা শোনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি টোল ফ্রি নম্বরও চালু করা হয়েছে, যেখানে ফোন করে যে কেউ নিজের মতামত ও প্রস্তাব জানাতে পারবেন।
উল্লেখ্য, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আর একশো দিনেরও কম সময় বাকি। নির্বাচনের আগে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছেই ইশতেহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ক্ষমতায় এলে আগামী পাঁচ বছরে কী কী কাজ করবে, সেই প্রতিশ্রুতিই থাকে ইস্তাহারে। আর সেই ইশতেহারকে আরও জনমুখী করতেই এবার মানুষের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি।
সাংবাদিক বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'এই সরকারের হাত থেকে পশ্চিমবঙ্গবাসীর মুক্তি যখন নিশ্চিত, তখন আপনারাও আপনাদের পরামর্শ দিন। আজ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের ১,০০০টি জায়গায় ড্রপ-বক্স রাখা হবে, যেখানে মানুষ লিখিতভাবে তাঁদের মতামত জমা দিতে পারবেন।'
তিনি জানান, শুধু ড্রপ-বক্স নয়, চালু করা হয়েছে একটি টোল ফ্রি নম্বর-৯৭২৭২৯৪২৯৪। এছাড়াও ই-মেলের মাধ্যমে কিংবা কিউআর কোড স্ক্যান করে বিজেপির ওয়েবসাইটে গিয়েও পরামর্শ জানানো যাবে।
শমীক ভট্টাচার্য আরও বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। পশ্চিমবঙ্গে ভারী শিল্প আনতে হলে কী কী করা দরকার, শিল্পবান্ধব রাজ্য গড়তে কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, সেই বিষয়ে আমরা শিল্পপতিদের কাছ থেকেও পরামর্শ চাইছি। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের কাছে ১০ হাজার চিঠি পাঠানো হচ্ছে। আশা করছি, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকেই এই সংকল্পপত্র নিয়ে আমরা মানুষের সামনে যেতে পারব।'
তিনি অতীতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, 'আগে বাংলায় দেখা গিয়েছে, নির্বাচনের একেবারে শেষ মুহূর্তে ইশতেহার প্রকাশ করা হত। দলের কয়েকজন মুষ্টিমেয় নেতা বসে সেই ইশতেহার তৈরি করতেন।' বিজেপি সেই ধারা ভাঙতে চায় বলেই মানুষের সরকার গড়ার লক্ষ্যে মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।