
বিধানসভা ভোটের পর থেকেই বিজপিতে ডামাডোল চলছে। পুরভোট হোক বা উপনিজ্ঞবাচন বিজেপির হারের ধারা অব্যাহত, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সামনে আসছে গোষ্ঠী কোন্দল। গত কয়েকদিন দিলীপ ঘোষ ও সুকান্ত মজুমদারের মধ্যে সংঘাত প্রায় প্রকাশ্যেই চলে এসেছে। আর এই আবহেই গেরুয়া শিবিরে এবার চাঞ্চল্য তৈরি করে দিলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা বিধানসভায় বিজেপির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। জানা যাচ্ছে দলের জেলা সাংগঠনিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়লেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর পাশাপাশি ওই গ্রুপ থেকে লেফট করেছেন দলের আর এক বিধায়ক অশোক দিন্দা ও নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা সাহেব দাস।
এটা কি বিদ্রোহ শুভেন্দু অধিকারীর?
রবিবার তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির তরফে মণ্ডল সভাপতিদের নাম ঘোষণা করা হয়। তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে ৪২টি মণ্ডল সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়। যেখানে দেখা যায়, নামের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন একাধিক পুরনো মণ্ডল সভাপতি৷ বদলে প্রাধান্য পেয়েছেন জেলা সভাপতি তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মণ্ডল সভাপতিরা৷ তাতে আদি–নব্যের দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু সহ বাকি নেতাদের গ্রুপ ছাড়ার ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ তবে কী কারণে তাঁরা গ্রুপ ছাড়লেন তা জানা যায়নি৷ এ বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারীর কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি৷
জানা যাচ্ছে, তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা সভাপতি হওয়ার পর থেকেই জেলা নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল৷ বাড়ছিল দলীয় কোন্দল৷ বিধায়ক তাপসী মণ্ডল তো বটেই, আরও অনেকের সঙ্গেই চাপানউতোর চলছিল৷ রবিবার মণ্ডল সভাপতির তালিকা প্রকাশ হতেই সেই অশান্তি সামনে চলে আসে৷ রবিবার রাতে বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে যান একে একে শুভেন্দু অধিকারী, ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা ও সাহেব দাসরা। এমনিতেই বঙ্গ বিজেপিতে গোষ্ঠী কোন্দল অব্যাহত। জেলায়-জেলায় নেতাদের দলত্যাগ-ইস্তফায় নাজেহাল বিজেপি নেতৃত্ব। তার মধ্যে স্বয়ং বিরোধী জলনেতার জেলায় বিজেপির গ্রুপ লেফট ইতিমধ্যে বঙ্গ রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে।