ভুয়ো ভ্যাকসিনকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইতিমধ্যেই বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে তদন্তকারীদের হাতে। তারমধ্যে অন্যতম নিজেকে আইএএস পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি গাড়িতে নীল বাতি লাগিয়ে ঘুরত দেবাঞ্জন। আর এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছে পুলিশ ও পুরসভাকে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল প্রশ্ন করেন, "যদি ধরেওনি দেবাঞ্জন দেব আইএএস ছিলেন, তাহলেও তিনি নীলবাতি লাগান গাড়ি নিয়ে ঘুরছিলেন কীভাবে? একজন আইএএস কি নীলবাতি লাগান গাড়ি নিয়ে ঘুরতে পারেন? পুলিশ কী করছিল? রাজ্যজুড়ে নীলবাতির অপব্যবহার হচ্ছে কীভাবে?"
বিচারপতির এহেন প্রশ্নের পরেই উঠতে শুরু করেছে ঠিক কারা গাড়িতে নীলবাতি লাগানোর অধিকারী? এখানে একটা কথা মনে রাখতে হবে বর্তমানে লালবাতি যাতে গাড়িতে আর ব্যবহার করা না হয় তারজন্য নির্দিষ্ট নির্দেশ রয়েছে। তাছাড়া ২০১৭ সালে ভিআইপি সংস্কৃতি ঘোচাতে লালবাতির ব্যবহার নিষিদ্ধি করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে খবর লালবাতি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও নির্দেশিকা জারি করেনি রাজ্য সরকার। অন্যদিকে আবার নীলবাতির ক্ষেত্রেও রয়েছে ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট তালিকা।
নীলবাতির অধিকারী কারা?
রাজ্য পরিবহণ দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী ফ্ল্যাশার সহ নীলবাতি ব্যবহারের অধিকারী যাঁরা তাঁরা হলেন, সংসদীয় সচিব, অ্যাডভোকেট জেনারেল, অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল, রাজ্য নির্বাচন কমিশনার, স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান, পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান, পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে পড়া শ্রেণির কমিশানের চেয়ারম্যান এবং পিএসসি-র চেয়ারম্যান। সেক্ষেত্রে এখানেই প্রশ্ন উঠছে কীভাবে পুলিশের নজর এড়িয়ে এতদিন নীলবাতি ব্যবহার করল দেবাঞ্জন দেব?