
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে রাজ্যে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নয়াদিল্লি থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখতে এলাকাভিত্তিক টহল, ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি, ইভিএমের নিরাপত্তা, শক্ত ঘাঁটি পাহারা এবং গণনাকেন্দ্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।
বাহিনী আসার সূচিও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ১ মার্চ প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি পৌঁছবে। এর মধ্যে সিআরপিএফের ১১০, বিএসএফের ৫৫, সিআইএসএফের ২১, আইটিবিপির ২৭ এবং এসএসবির ২৭ কোম্পানি থাকবে। দ্বিতীয় দফায় ১০ মার্চ আরও ২৪০ কোম্পানি আসবে। সেই দফায় সিআরপিএফের ১২০, বিএসএফের ৬৫, সিআইএসএফের ১৬, আইটিবিপির ২০ এবং এসএসবির ১৯ কোম্পানি মোতায়েন করা হবে। সব মিলিয়ে মোট ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে দায়িত্ব পালন করবে।
নির্দেশে বলা হয়েছে, নির্বাচন পর্ব শেষ হলে ধাপে ধাপে বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। তবে সেই সময়সূচি পরে জানানো হবে। রাজ্য সরকারকে বিস্তারিত মোতায়েন পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কোথায় কত বাহিনী থাকবে এবং কীভাবে তাদের চলাচল ও দায়িত্ব বণ্টন হবে, তার রূপরেখা তৈরি করতে বলা হয়েছে।
প্রতিটি কোম্পানিতে আটটি বিভাগ থাকবে। এর মধ্যে ছয়টি বিভাগ সরাসরি ভোটকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। একটি বিভাগ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল হিসেবে এবং অন্যটি তদারকির কাজে নিয়োজিত থাকবে।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই এত বিপুল কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাজ্যের নির্বাচনী আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। তার পরের দিন থেকেই শুরু হচ্ছে বাহিনী মোতায়েন। গত বিধানসভা নির্বাচনে হাজারের বেশি কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল, কারণ সে বার ভোট হয়েছিল আট দফায়। এবার কত দফায় ভোট হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদি দফা কম হয়, তবে বাহিনীর সংখ্যাতেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে জল্পনা। তবে আপাতত ভোটের আগেই বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তই রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।