Advertisement

Anubrata Mondal: বীরভূমে অবাধে কয়লা পাচার, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন খোদ অনুব্রতই

বীরভূমে কয়লা পাচার ইস্যুতে ফের উত্তপ্ত জেলা রাজনীতি। দীর্ঘদিন ধরেই এই জেলায় অবৈধ কয়লা কারবার নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যেই এবার প্রকাশ্যে পুলিশ প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর সাফ অভিযোগ, জেলার কিছু পুলিশ কর্মী কয়লা পাচারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

অনুব্রত মণ্ডল-- ফাইল ছবিঅনুব্রত মণ্ডল-- ফাইল ছবি
সুচেতা কোনার
  • বোলপুর,
  • 20 Feb 2026,
  • अपडेटेड 11:55 AM IST

বীরভূমে কয়লা পাচার ইস্যুতে ফের উত্তপ্ত জেলা রাজনীতি। দীর্ঘদিন ধরেই এই জেলায় অবৈধ কয়লা কারবার নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যেই এবার প্রকাশ্যে পুলিশ প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর সাফ অভিযোগ, জেলার কিছু পুলিশ কর্মী কয়লা পাচারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

জেলা রাজনৈতিক সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক সময়ে বীরভূমের একাধিক এলাকায় কয়লা পাচার নিয়ে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাতের অন্ধকারে ট্রাক ও ছোট গাড়িতে করে কয়লা পাচার হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে পুলিশকে জানানো হলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই প্রেক্ষাপটেই অনুব্রত মণ্ডলের ক্ষোভ প্রকাশ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

অনুব্রত মণ্ডলের বক্তব্য, “যদি কেউ নোংরামির সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কয়লা পাচার কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” তিনি আরও দাবি করেছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি সরাসরি জেলা পুলিশ সুপারের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন। যদিও জেলা পুলিশের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রথমত, যদি সত্যিই থানাস্তরে অভিযোগ জানানো হয়ে থাকে, তবে কেন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি? দ্বিতীয়ত, শাসকদলের একজন প্রভাবশালী নেতা প্রকাশ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলে প্রশাসনিক বার্তা কী দাঁড়ায়? তৃতীয়ত, কয়লা পাচারের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে কার্যকর কৌশল কোথায়?

বিরোধী দলগুলি অবশ্য সুযোগ হাতছাড়া করেনি। তাদের অভিযোগ, কয়লা পাচার কোনও নতুন বিষয় নয়। বহুদিন ধরেই এই চক্র সক্রিয়। কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “পুলিশের একাংশের মদত না থাকলে এত বড় চক্র চলতেই পারে না।” তারা আরও দাবি করেছে, শাসকদলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলেই এখন এই অভিযোগ সামনে আসছে। যদিও এই অভিযোগের সপক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ তারা প্রকাশ্যে আনেনি।

Advertisement

বীরভূম দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর জেলা হিসেবে পরিচিত। অতীতে নানা বিতর্ক, হিংসা ও আইনি তদন্তের ঘটনায় এই জেলার নাম শিরোনামে এসেছে। কয়লা পাচার ইস্যুও নতুন নয়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ কয়লা উত্তোলন ও পাচার নিয়ে আগে একাধিক তদন্ত হয়েছে। ফলে অনুব্রত মণ্ডলের এই মন্তব্যকে অনেকে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা যখন প্রকাশ্যে পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, তখন তা কেবল প্রশাসনিক বিষয় থাকে না; তা রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। একদিকে এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিতে পারে, অন্যদিকে প্রশাসনের সঙ্গে দূরত্ব বা অসন্তোষের বার্তাও প্রকাশ করতে পারে।

এক্ষেত্রে আরেকটি দিক গুরুত্বপূর্ণ—আইন অনুযায়ী কোনও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযুক্ত, দোষী নন। তাই পুলিশের একাংশ “নোংরামির সঙ্গে যুক্ত”—এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া তার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব নয়। জেলা পুলিশের তরফে যদি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়, তবে তবেই পরিষ্কার হবে অভিযোগের ভিত্তি কতটা দৃঢ়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বলছেন, কয়লা পাচার বন্ধ করতে হলে নিয়মিত নজরদারি, চেকপোস্টে কড়াকড়ি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো জরুরি। তাঁদের মতে, মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে সাময়িক সাফল্য মিললেও, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য ধারাবাহিক পদক্ষেপ দরকার। অন্যদিকে ব্যবসায়ী মহলের একাংশের বক্তব্য, অবৈধ কারবার রুখতে হলে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এই ঘটনার পর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদি থানাস্তরে অভিযোগ গুরুত্ব না পেয়ে থাকে, তবে তার কারণ কী? জনবল সঙ্কট, প্রমাণের অভাব, নাকি অন্য কোনও চাপ—এসব নিয়ে এখন চর্চা চলছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মুখ খুলতে রাজি নন।

বিরোধীদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। তাদের মতে, উচ্চ পর্যায়ের নজরদারি বা বিশেষ তদন্ত দল গঠন করলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। তবে শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত এই দাবির বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানা যায়নি।

রাজনৈতিকভাবে এই ইস্যু তাৎপর্যপূর্ণ আরও একটি কারণে। কয়লা পাচার বহুদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কিত বিষয়। ফলে বীরভূমে নতুন করে এই অভিযোগ সামনে আসা স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য স্তরেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যখন অভিযোগের সূত্রপাত শাসকদলের ভেতর থেকেই।

অনুব্রত মণ্ডলের এই মন্তব্য কি প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল, নাকি সত্যিই দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান—তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলছেন, তিনি দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা করছেন। আবার কেউ মনে করছেন, এটি প্রশাসনের নির্দিষ্ট অংশকে সতর্কবার্তা।

সব মিলিয়ে বীরভূমের কয়লা পাচার ইস্যু নতুন করে রাজনৈতিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন নজর থাকবে—জেলা পুলিশ সুপারের দফতর এই অভিযোগ নিয়ে কী পদক্ষেপ নেয়। কোনও অভ্যন্তরীণ তদন্ত হয় কি না, বা অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয় কি না, তা সময়ই বলবে।

এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বিষয়টি কেবল প্রশাসনিক সীমায় আটকে নেই; এটি রাজনৈতিক আস্থার সঙ্গেও জড়িত। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং অবৈধ কারবার রুখতে কঠোর ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাই হোক, পরিষ্কার ব্যাখ্যা ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই এখন পরিস্থিতি শান্ত করার একমাত্র পথ।

বীরভূমের রাজনীতি তাই আবারও এক সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে। কয়লা পাচার ইস্যুতে শাসকদলের ভেতর থেকেই উঠে আসা অভিযোগ কতদূর গড়ায়, প্রশাসন কীভাবে সাড়া দেয় এবং বিরোধীরা কতটা রাজনৈতিকভাবে এই ইস্যু কাজে লাগাতে পারে—সব মিলিয়ে আগামী দিনে এই বিষয়টি জেলা রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকবে।

Read more!
Advertisement
Advertisement