
পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ঠিক কবে থেকে ক্ষয় হতে শুরু করল, এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই ফিরে তাকান ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারির দিকে। সেদিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে জন্ম নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। সেই থেকেই কার্যত শুরু হয় রাজ্যে কংগ্রেসের পতনের অধ্যায়। সময় যত গড়িয়েছে, ততই কমেছে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তো একেবারেই শূন্য হাতে ফিরতে হয় শতাব্দীপ্রাচীন দলটিকে।
এই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে চর্চায় কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ কৌশল। সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে আর জোট নয়, একা লড়াইয়ের পথেই হাঁটতে পারে কংগ্রেস। দলীয় অন্দরে জোরাল মত, তথাকথিত ‘শিলিগুড়ি মডেল’ এখন কার্যত ব্যর্থ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, একা লড়াই করলে কি বাংলায় কংগ্রেসের হারানো জমি ফিরে পাওয়া সম্ভব?
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কংগ্রেস একাধিক বিকল্প নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে। বাম দলগুলির সঙ্গে জোট নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত আলোচনা না হওয়ায় রাজ্যে এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারা। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের একাংশ নেতার মতে, দীর্ঘদিন জোটনির্ভর রাজনীতির ফলে দল আরও দুর্বল হয়েছে। তাঁদের যুক্তি, নিজস্ব শক্তিতে না নামলে কংগ্রেসের সংগঠন আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি যখন পুরোদমে ভোটের প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে, তখন কংগ্রেসের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়। গত বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট ভরাডুবির মুখে পড়ে, জেতে মাত্র একটি আসন। একসময়ের বাম-কংগ্রেস অধ্যুষিত বাংলায় এখন বিজেপিই প্রধান বিরোধী শক্তি।
কংগ্রেসের অন্দরের একাংশের আশঙ্কা, জোট রাজনীতির আড়ালে থাকলে বহু এলাকায় দল পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, যেখানে দীর্ঘদিন সংগঠিত লড়াই হয়নি। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যজুড়ে সংগঠন মজবুত করার পক্ষে সওয়াল করছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, ‘শিলিগুড়ি মডেল’-এর কথা উঠলেই ফিরে আসতে হয় ২০১৫ সালের শিলিগুড়ি পুরভোটে। ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর ওই নির্বাচন ছিল বামেদের কাছে বড় পরীক্ষা। প্রবল মমতা হাওয়ার মধ্যেও বাম প্রার্থী অশোক ভট্টাচার্য মেয়র নির্বাচিত হন। সেই সাফল্যের নেপথ্যে ছিল বাম-কংগ্রেসের অলিখিত সমঝোতা। ৪৭টি আসনের মধ্যে বামেরা পায় ২৩টি, তৃণমূল ১৭টি, কংগ্রেস ৪টি এবং বিজেপি ২টি। সেই ফলই ‘শিলিগুড়ি মডেল’ হিসেবে পরিচিতি পায় এবং পরবর্তী সময়ে বাম-কংগ্রেস জোট রাজনীতির ভিত্তি গড়ে দেয়।