
সামনেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনীতির পারদ। এখনও ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। কিন্তু ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা সামনে আসছে। এবার কোচবিহারের নাটাবাড়ি এলাকায় বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ। নতুন করে শুরু হল রাজনৈতিক তরজা। অভিযোগের তির তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসকদল।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার কোচবিহারের নাটাবাড়ির জিরানপুর এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য এবং বিজেপির মণ্ডল সহ-সভাপতি পবিত্র বর্মনের বাড়িতে এদিন একটি বুথ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, বুথ সম্মেলন শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
গাড়ি করে এসে হামলার অভিযোগ
বিজেপির অভিযোগ, বুথ সম্মেলন শেষ হওয়ার পর দু’টি গাড়িতে করে একদল দুষ্কৃতী সেখানে পৌঁছয়। সেই সময় বাড়িতে একাই ছিলেন পবিত্র বর্মনের স্ত্রী। তিনি হামলাকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় বলেও দাবি বিজেপির।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
ঘটনাস্থলে বিজেপি বিধায়ক, শাসকদলের বিরুদ্ধে তোপ
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন নাটাবাড়ির বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামী। তিনি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণের অভিযোগ তোলেন।
মিহির গোস্বামীর দাবি, 'বিজেপির বুথ সম্মেলন শেষ হওয়ার পরেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। সেই সময় বাড়িতে বিজেপি নেতার স্ত্রী একাই ছিলেন। তাঁকেও মারধর করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা।'
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের আগে বিজেপি কর্মীদের ভয় দেখাতেই এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।
সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিল তৃণমূল
যদিও বিজেপির অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নেতা তথা মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায় বলেন, 'পবিত্র বর্মনকে এলাকায় খুব একটা দেখা যেত না। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা না বলেই সরকারি জিনিসপত্র বিতরণ করতেন। এদিন তাঁকে এলাকায় দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়।'
তিনি আরও দাবি করেন, 'ভাঙচুরের কোনও ঘটনা ঘটেনি। যদি কোনও ঘটনা ঘটেও থাকে, তার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও যোগ নেই।'
ভোটের আগে রাজনৈতিক সংঘর্ষের আশঙ্কা
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের আগে বিভিন্ন এলাকায় বুথ সংগঠন শক্তিশালী করার কাজ চলছে। তার জেরেই অনেক জায়গায় সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা সামনে আসছে।
প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় স্তরে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
সংবাদদাতা: মনসুর হাবিবুল্লাহ