Advertisement

Nipah virus: এই নিপা প্রাণ কেড়েছিল ৪৫ জনের, ১৯ বছর পর ফের বাংলায় হানা মারণ ভাইরাসের

দীর্ঘ ১৯ বছর পর ফের পশ্চিমবঙ্গে আতঙ্ক ছড়াল প্রাণঘাতী নিপা ভাইরাস। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিপা সংক্রমণের সন্দেহে দুই নার্স গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন। দু’জনেই আপাতত লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। এই ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য দফতর।

Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 13 Jan 2026,
  • अपडेटेड 7:17 PM IST
  • দীর্ঘ ১৯ বছর পর ফের পশ্চিমবঙ্গে আতঙ্ক ছড়াল প্রাণঘাতী নিপা ভাইরাস।
  • উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিপা সংক্রমণের সন্দেহে দুই নার্স গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

দীর্ঘ ১৯ বছর পর ফের পশ্চিমবঙ্গে আতঙ্ক ছড়াল প্রাণঘাতী নিপা ভাইরাস। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিপা সংক্রমণের সন্দেহে দুই নার্স গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন। দু’জনেই আপাতত লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। এই ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য দফতর।

জানা গিয়েছে, দুই নার্সের রক্তের নমুনা একাধিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতরের প্রাথমিক অনুমান, কর্মসূত্রে পূর্ব বর্ধমানে যাতায়াতের সময়ই তাঁরা সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন উৎস থেকে নিপা ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই অনিশ্চয়তাই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র তথ্য অনুযায়ী, নিপা ভাইরাসে মৃত্যুহার ৪৫ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যে। এই ভাইরাসের কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা কার্যকর টিকা এখনও নেই, যার ফলে এটিকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক জুনোটিক ভাইরাস হিসেবে ধরা হয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক রাজ্যের পাশে দাঁড়িয়েছে। একটি জাতীয় যৌথ আউটব্রেক রেসপন্স টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এই দল আক্রান্ত দুই নার্সের সংস্পর্শে আসা সকল ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে নমুনা পরীক্ষা করছে। জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (NCDC)-এর এক সূত্র জানায়, 'এই মুহূর্তে সংক্রমণের সুনির্দিষ্ট উৎস চিহ্নিত করা যায়নি। আক্রান্তদের অবস্থা এখনও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।'

ভারতে এই নিয়ে নিপা ভাইরাসের নবম নথিভুক্ত প্রাদুর্ভাব। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতের প্রথম দু’টি নিপা প্রাদুর্ভাবই ঘটেছিল পশ্চিমবঙ্গে। ২০০১ সালে রাজ্যে ৬৬ জন আক্রান্ত হন, যার মধ্যে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়। ২০০৭ সালে ফের নিপার থাবায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সাল থেকে প্রায় প্রতি বছর কেরালায় বিক্ষিপ্তভাবে নিপা সংক্রমণের খবর মিলেছে।

নিপা মূলত একটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ানো ভাইরাস। ফলের বাদুড়কে এর প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে ধরা হয়। দূষিত খাবার, কাঁচা খেজুরের রস বা সংক্রমিত মানুষের সংস্পর্শেও এটি ছড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর দূরত্ব কমে যাওয়াই সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

Advertisement

মানুষের শরীরে নিপা সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, বমি ও গলা ব্যথা দেখা যায়। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি দ্রুত এনসেফালাইটিসে পরিণত হতে পারে। অনেক রোগীর শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি এমনকি ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোমায় চলে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গিয়েছে। ইনকিউবেশন পিরিয়ড সাধারণত ৪ থেকে ১৪ দিন হলেও, কোনও কোনও ক্ষেত্রে তা ৪৫ দিন পর্যন্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, নিপা ভাইরাসের মহামারী সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সেই কারণেই ভ্যাকসিন গবেষণার উপর জোর বাড়ানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দেশে স্ব-পরিবর্ধক mRNA ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement