
একটু ডিমের ঝোল দিয়ে ভাত। মধ্যবিত্তের জীবনে সুখ বলতে এটুকুই। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সেই সামান্য আনন্দটুকুও যেন ধীরে ধীরে নাগাল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। ফের দাম বাড়ল ডিমের। শনিবারের নয়া রেট অনুযায়ী, এবার থেকে এক-একটি ডিমের দাম দাঁড়াল সাড়ে ৭ টাকা করে। গতকাল, শুক্রবারও ৭ টাকা করে ডিম বিক্রি হয়েছে কলকাতা ও শহরতলির বাজারে। কিন্তু শনিবারই দাম বেড়েছে। আর তার ফলে শীঘ্রই এই নয়া, সাড়ে ৭ টাকার রেটে ডিম কিনতে হতে পারে।
খুচরো বাজারে ডিমের নতুন দাম: ৭.৫০ টাকা
চলতি মাসের শুরু থেকেই অবশ্য ডিমের পাইকারি রেট বাড়ছিল। গত নভেম্বরের শেষে ডিম-প্রতি পাইকারি দর গড়ে ৫.৮ টাকার আশেপাশে ছিল। ডিসেম্বরের প্রথমেও ৫.৫৫ টাকা করে পাইকারি বাজারে ডিম বিক্রি হয়েছে। কিন্তু তারপরেই দাম বাড়তে শুরু করে। ৬ তারিখ নাগাদ পাইকারি রেট বেড়ে দাঁড়ায় ৫.৯২ টাকায়। এরপর ৭ তারিখ সেটা বেড়ে ৬.২ টাকা হয়ে যায়। ফলে মূল্যবৃদ্ধির বাজারে মুনাফা ধরে রাখতে শেষমেশ খুচরো বাজারে সাড়ে ৭ টাকায় পৌঁছে গেল ডিমের দাম।
দেশের অর্থনীতিতে পোল্ট্রি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রচুর সংখ্যক কৃষক এবং ছোট ব্যবসায়ী ডিম উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। ডিমের দামের ওঠানামার ফলে কৃষক এবং ক্রেতা উভয়েই প্রভাবিত হন।
দাম বাড়ল কেন?
মূলত মুরগি পালনের খরচ বৃদ্ধিকেই দায়ী করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি পরিবহন খরচ, সামগ্রিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণেও ডিমের পাইকারি রেট বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্যে ডিমের প্রভাব
ডিমে প্রচুর পরিমাণে,
১. প্রোটিন
২. ভিটামিন
৩. খনিজ উপাদান
৪. স্বাস্থ্যকর চর্বি
৫. বিভিন্ন ট্রেস নিউট্রেন্ট থাকে।
ভারতে এমনিতেই প্রোটিন খাবার প্রবণতা কম। এখানে সস্তায় প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ডিমের উপরেই নির্ভরশীল জনসংখ্যার একটি বৃহৎ অংশ। ফলে ডিমের দাম বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।