
গত লোকসভা ভোটের আগে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে উঠেছিল ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ। হিন্দুদের ভাগীরথীতে ভাসানোর হুমকি দিয়েছিলেন। ওই উস্কানিমূলক মন্তব্য নিয়ে মহম্মদ সেলিমকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক দাবি করেছেন,'মমতার কথায় হুমায়ুন ওসব বলতেন'। শনিবার সেলিমের বক্তব্যের প্রতিধ্বনিও শোনা গেল হুমায়ুনের গলায়।
রেজিনগরের জন সমাবেশ থেকে হিন্দুদের কাছে ক্ষমা চাইলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির দলনেতা হুমায়ুন কবীর। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় বিজেপির হিন্দুদের ভাগীরথীর জলে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা বলায় ক্ষমাও চাইলেন হুমায়ুন। ইউসুফ পাঠানকে জেতাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলেছিলেন তা নিয়েও এদিন বিস্ফোরক দাবি করেন জাপ দলনেতা।
হুমায়ুনের বিস্ফোরক দাবি, "ইউসুফ পাঠানকে ভোট দিয়ে জেতাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, আমার কাছে খবর আছে অধীর চৌধুরী জিতে যাচ্ছেন, ইউসুফ পাঠান হেরে যাচ্ছেন, মহম্মদ সেলিম জিতে যাচ্ছেন, আবু তাহের খান হেরে যাচ্ছেন, তুমি একটা কিছু করো। আমি বলেছিলাম, দিদি আপনি জেলার সাংগঠনিক সভাপতি করে রেখেছেন অপূর্ব সরকার, চেয়ারম্যান করে রেখেছেন রবিউর আলম চৌধুরিকে, তাদের বলুন আপনার প্রার্থীদের জেতাবে, আমাকে কেন বলছেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, যা হওয়ার হয়েছে। আমি ইউসুফের বাবা-মাকে কথা দিয়েছি গুজরাত থেকে এনে বহরমপুরে নিয়ে এসেছি। তুমিই একমাত্র পারবে, তোমার কথা মুর্শিদাবাদের মানুষ শোনে।....."
হুমায়ুন আরও বলেন, "যোগী আদিত্যনাথকে জবাব দিয়েছিলাম, এটা বাংলার মুর্শিদাবাদ, আমরা কোও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করিনি, করব না। আপনি যদি আমাদের উল্টো করে টাঙিয়ে সিধা করতে চান। আমি মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে নির্দেশ পেলে বিজেপি করা হিন্দুদের ভাগীরথীর জলে ভাসিয়ে দেব। এই কথায় আমি এখন অনুতপ্ত, দুঃখিত। মুখ্যমন্ত্রীর কথা রাখতে গিয়ে হিন্দু ভাইদের মনে আঘাত দিয়েছিলাম। প্রকাশ্যে আজ করজোরে ক্ষমা চাইছি। ভবিষ্যতে এমন মিথ্যেবাদী মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, কাউকে জেতানোর জন্য আঘাত করার কথা হুমায়ুন কবীর বলবে না।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ কার্যকারী করতে গিয়ে হিন্দুদের মনে আঘাত দিয়েছেন। ক্ষোভ উগরে দিলেন হুমায়ুন।