
তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং প্রশান্ত কিশোরকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া তথাকথিত ‘ভুয়ো চ্যাট’ মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিক সুরজিৎ দাশগুপ্তকে গ্রেফতার করতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি দল পৌঁছয় নয়ডার লোটাস পানাশ সোসাইটিতে। জানা গিয়েছে, নদিয়ার আদালত থেকে জারি হওয়া পরোয়ানা কার্যকর করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের উপস্থিতির খবর পেয়ে নয়ডা থানার ফেজ-২ এলাকার ফাঁড়ির ইনচার্জ সেক্টর-১১০ টিম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। অভিযুক্তের টাওয়ার ও ফ্ল্যাট সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে তাঁর আবাসনে তল্লাশি চালানো হয়। তবে অভিযুক্ত সুরজিৎ দাশগুপ্তকে ফ্ল্যাটে পাওয়া যায়নি। পুলিশ তাঁর স্ত্রীকে আদালতের ওয়ারেন্টের বিষয়ে অবহিত করে এবং আশপাশের এলাকাতেও খোঁজখবর নেয়। কিন্তু সুরজিৎবাবুর অবস্থান সম্পর্কে কোনও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। নয়ডা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে সব রকম সহযোগিতা করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। বিজেপির আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য ‘এক্স’-এ পোস্ট করে অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অঘোষিতভাবে সাংবাদিকের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। তাঁর দাবি, তৃণমূলের এক সাংসদ ও তাঁর ‘প্রেমিক’-এর মধ্যে আদানপ্রদান হওয়া চ্যাট শেয়ার করার অভিযোগেই এই পদক্ষেপ। যদিও তৃণমূলের দাবি, ভাইরাল হওয়া চ্যাটগুলি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হয়েছে।
মালব্য প্রশ্ন তোলেন, চ্যাটগুলি আসল না জাল, তা নির্ধারণের অধিকার কার? তাঁর বক্তব্য, সেই সিদ্ধান্ত কৃষ্ণনগর পুলিশ নিতে পারে না। পাশাপাশি তিনি কটাক্ষ করে বলেন, যদি ধর্ষণ ও নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের তদন্তেও একই তৎপরতা দেখা যেত, তবে বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক বেশি নিরাপদ হতো। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপ চোখে পড়ছে।