
Mamata Banerjee LPG crisis: পশ্চিমবঙ্গে গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখতে পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। বুধবার সন্ধ্যায় এই বিষয়ে সাংবাদিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মুখ্যমন্ত্রী জানান, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা হয়েছে। রাজ্য সরকার একটি নির্দিষ্ট SOP তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে রাজ্যে কত গ্যাসের স্টক রয়েছে এবং কোথায় কতটা সরবরাহ আছে, তার নিয়মিত আপডেট রাখা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'সিএনজির ব্যাপারটা আমরা জানলাম। আমার সঙ্গে সব গ্যাস সংস্থার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা ঠিক করেছি আমরা একটি এসওপি তৈরি করব। তার মাধ্যমে কার কত স্টক রয়েছে, তার আপডেট রাখা হবে। আর সংস্থাদের অনুরোধ করব, যেন আমাদের এ রাজ্যের স্টক এখানেই রাখা হয়। আমাদের এখানের রিফাইনারি থেকে যেন আপাতত বাইরে না যায়।'
রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, যাতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলিতে কোনও সমস্যা না হয়। বিশেষ করে স্কুলের মিড ডে মিল, হাসপাতাল এবং বিভিন্ন হস্টেলে গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'মিড ডে মিল, আইসিডিএস এ কোনও আপাতত সমস্যা হবে না বলেই ওঁরা জানিয়েছেন। আমরা হেলথ ক্যান্টিনের কথাও বলেছি। সেখানেও গ্যাসের সমস্যা হবে না।'
তবে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, সেটিও স্বীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বর্তমানে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বুক করার পর প্রায় ২৫ দিনের গ্যাপ রাখতে বলা হচ্ছে। আর এই ঘোষণার পরেই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে বলে জানান মমতা।
তিনি বলেন, 'আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ২ লক্ষ সিলিন্ডারের চাহিদা ছিল, সেখানে এখন তা বেড়ে প্রায় ৬ লক্ষে পৌঁছে গিয়েছে। ২৫ দিনের গ্যাপের ঘোষণার পরেই মানুষ আরও প্যানিকের বশে গ্যাস বুক করতে শুরু করেছেন।' এই হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ার ফলে গ্যাস সংস্থাগুলির অনলাইন বুকিং সার্ভারেও সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানান মমতা।
এহেন পরিস্থিতিতে মানুষের কাছে শান্ত থাকার আবেদনও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, আতঙ্কে অতিরিক্ত সিলিন্ডার বুক করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'আমার অনুরোধ, প্লিজ ২৫ দিনে বেঁধে দেবেন না। কারও কারও বড় পরিবার থাকে। সেদিকটা দেখতে হবে।'
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। তার ফলেই এলপিজি ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও কেন্দ্র ও রাজ্য; দুই স্তরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রয়োজন হলে আরও কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ, হোটেল-রেস্তোরাঁ বা গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবায় যাতে গ্যাসের অভাব না হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।