
Narendra Modi Singur rally: রবিবার সিঙ্গুরের সভা থেকে ফের অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সভামঞ্চ থেকেই পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প রূপায়ণ; একের পর এক ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে 'সিন্ডিকেট', 'মাফিয়া রাজ' এবং 'ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি'র প্রসঙ্গ।
'তৃণমূলের শাসনে পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গাকারী ও মাফিয়াদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূলের শাসনে পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গাকারী, মাফিয়া এবং লুটতরাজে কার্যত ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের সর্বত্র সিন্ডিকেট ট্যাক্স চাপানো হচ্ছে। নির্মাণ থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবসা, সব ক্ষেত্রেই এই ট্যাক্স দিতে বাধ্য করা হয়।
'বিজেপি সরকার এলে এই সিন্ডিকেট ট্যাক্স বন্ধ করা হবে'
মোদীর কথায়, বিজেপি সরকার এলে এই সিন্ডিকেট ট্যাক্স ও মাফিয়া ট্যাক্স বন্ধ করা হবে। এটিকে তিনি নিজের ‘গ্যারান্টি’ বলেও উল্লেখ করেন।
'সিন্ডিকেট ট্যাক্স চাপানো হয়েছে'
সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তৃণমূল সরকার শুধু রাজ্যের আইনশৃঙ্খলাই নয়, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তাকেও বিঘ্নিত করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাজ্যের নতুন প্রজন্মের উপর।
'ভাতার রাজনীতি'
যুবসমাজের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে বলেই, সেই পরিস্থিতি ঢাকতে ভাতার রাজনীতি চালু করা হয়েছে; এমনই দাবি করেন।
'তৃণমূল সরকার রাজ্য ও দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে'
অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতেও তৃণমূলকে নিশানা করেন মোদী। তাঁর অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে ধর্না দেওয়া হয়, কারণ তারাই তৃণমূলের বাঁধাধরা ভোটব্যাঙ্ক।
'যুবসমাজের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে ভাতার রাজনীতি চালানো হচ্ছে'
গত ১১ বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিকবার রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছে সীমান্তে ফেন্সিংয়ের জন্য জমি চেয়ে। কিন্তু সেই অনুরোধে কোনও সাড়া মেলেনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকতে দেয় এবং ভুয়ো নথি তৈরির চক্রকে আশ্রয় দেয়।
'পরিবর্তনের আশায় রাজ্যের যুবসমাজ মুখিয়ে'
বিহারে বিজেপি সরকার জঙ্গলরাজ রুখেছে উল্লেখ করে মোদী বলেন, এবার পশ্চিমবঙ্গের ‘মহাজঙ্গলরাজ’ উৎখাত করার সময় এসেছে। প্রকৃত পরিবর্তনের আশায় রাজ্যের যুবসমাজ মুখিয়ে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
'যুবকদের চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে'
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আদর্শের কথা তুলে ধরে মোদী বলেন, নারী ও যুবশক্তিকে পরিবর্তনের কাজে লাগিয়েই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে রাজ্যে মেয়েরা সুরক্ষিত নন এবং যুবকদের চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
'শিল্প ও বিনিয়োগ'
শিল্প ও বিনিয়োগ তখনই আসবে, যখন রাজ্যে আইনব্যবস্থা ঠিক হবে; বলেন প্রধানমন্ত্রী।
'কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছতে দেওয়া হয় না'
সভায় বিজেপি সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। কর্তব্যপথে ইন্ডিয়া গেটের সামনে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি স্থাপন এবং লালকেল্লা থেকে আজাদ হিন্দ ফৌজের লড়াইকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছতে দেয় না।