Advertisement

Vande Bharat Sleeper Non veg food: বন্দে ভারত স্লিপারে নন-ভেজও মিলবে, কবে থেকে, কী কী পদ?

হাওড়া-গুয়াহাটি (কামাখ্যা) বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসে অবশেষে আমিষ খাবার পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নিল রেল কর্তৃপক্ষ। রাজ্যের বিজেপির অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। 

Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 27 Jan 2026,
  • अपडेटेड 12:34 PM IST
  • হাওড়া-গুয়াহাটি (কামাখ্যা) বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসে অবশেষে আমিষ খাবার পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নিল রেল কর্তৃপক্ষ।
  • রাজ্যের বিজেপির অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। 

হাওড়া-গুয়াহাটি (কামাখ্যা) বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসে অবশেষে আমিষ খাবার পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নিল রেল কর্তৃপক্ষ। রাজ্যের বিজেপির অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। 

গত ১৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হাওড়া-গুয়াহাটি বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেন। কিন্তু শুরুতে এই ট্রেনে শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার পরিবেশনের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিষয়টিকে সামনে এনে তৃণমূল বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে এবং একে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের উপর ‘আঘাত’ বলে দাবি করে।

সোমবার সুকান্ত মজুমদার জানান, 'রবিবার আমি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে কথা বলেছি। বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসে আমিষ খাবারের বিকল্প চালু করার জন্য তাঁকে অনুরোধ করেছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, খুব শীঘ্রই যাত্রীদের জন্য আমিষ খাবারও পাওয়া যাবে। দু-তিন দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হবে।'

তৃণমূল তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে আগেই অভিযোগ করেছিল, শুধুমাত্র নিরামিষ খাবারের সিদ্ধান্ত বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতিকে উপেক্ষা করার শামিল। এ প্রসঙ্গে বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, 'ট্রেনটি নতুন চালু হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই সব পরিষেবা চালু করা সবসময় সম্ভব হয় না। কিন্তু তৃণমূল এই বিষয়টিকে নোংরা রাজনীতির হাতিয়ার করেছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব আমিষ খাবার চালুর জন্য আমি রেলমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি।'

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্মীয় স্থান সংযোগকারী রুটে নিরামিষ খাবার পরিবেশনের একটি সাধারণ নীতির কারণেই প্রাথমিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই ট্রেনটি কলকাতার কালীঘাট ও দক্ষিণেশ্বরের মতো কালী মন্দির এবং গুয়াহাটির কামাখ্যা মন্দিরের তীর্থযাত্রীদের কথা মাথায় রেখেই চালু করা হয়েছে।

উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছিলেন, এই ট্রেন পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের ভক্তদের পরস্পরের পবিত্র তীর্থস্থানে যাতায়াত আরও সহজ করে তুলবে। তবে বাস্তবতা হলো, পশ্চিমবঙ্গ ও অসম-উভয় রাজ্যেই আমিষ খাবারের সংস্কৃতি সুপ্রতিষ্ঠিত। মাছ ও মাংস এখানকার প্রধান খাদ্য, এবং কালী মন্দির বা কামাখ্যা মন্দিরে আমিষ খাবারের উপর কোনও ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞাও নেই। কামাখ্যা মন্দিরে তো বহুদিন ধরেই মাছ ও মাংস প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হয়।

Advertisement

এই বিতর্কে অস্বস্তিতে পড়ে রাজ্য়ের বিজেপির নেতৃত্বও। এর আগেও কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতাদের কিছু মন্তব্যে বাঙালির মাছখাওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতেই ২৩ জানুয়ারি রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রকাশ্যে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে আমিষ খাবারের দাবিকে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, 'সব বিষয়ে বিরোধিতা করার দরকার নেই। এটি যুক্তিসঙ্গত দাবি। বাংলা থেকে ছাড়া ট্রেনে বাঙালিরা মাছ খাবে না, এমন ভাবনা গ্রহণযোগ্য নয়।'

তবে বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ট্রেনে মাছ পরিবেশন করা হবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। যদিও মেনুতে মুরগির মাংস থাকছে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। এক বিজেপি নেতা জানান, 'সব ট্রেনে মাছ পরিবেশন করা বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। তবে রেলমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অন্তত মুরগির মাংসের মতো আমিষ খাবার থাকবে।'

এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তকে বিজেপির ‘নৈতিক জয়’ মানতে নারাজ। তাদের দাবি, বাংলার প্রবল বিরোধিতা এবং নির্বাচনের চাপেই কেন্দ্রীয় সরকার অবস্থান বদল করতে বাধ্য হয়েছে। তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'বিজেপি নেতারা আগে বাঙালির মাছখাওয়া নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা আমরা ভুলিনি। ভোটের কথা মাথায় রেখেই তারা এখন আমিষ খাবারের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। নির্বাচন মিটলেই আবার বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ শুরু হবে।'


 

Read more!
Advertisement
Advertisement