Advertisement

NRC Notice: ৪৫ বছর আগে মৃত বাবার পরিচয় পত্র চাইছে ট্রাইবুনাল! NRC নোটিশে হতবাক বৃদ্ধ

ফের অসম থেকে NRC-র নোটিশ। এবার চিঠি এল কোচবিহারের মাথাভাঙা ২ নম্বর ব্লকের লতাপাতা গ্রামের এক বৃদ্ধের কাছে। নাম নিশিকান্ত দাস। বয়স পেরিয়েছে সত্তর।

মৃত বাবার পরিচয়পত্র আনতে হবে! NRC নোটিশে মাথায় হাত কোচবিহারের বৃদ্ধের।মৃত বাবার পরিচয়পত্র আনতে হবে! NRC নোটিশে মাথায় হাত কোচবিহারের বৃদ্ধের।
স্বপন কুমার মুখার্জি
  • কোচবিহার,
  • 27 Jul 2025,
  • अपडेटेड 1:23 PM IST
  • ফের অসম থেকে NRC-র নোটিশ।
  • এবার চিঠি এল কোচবিহারের মাথাভাঙা ২ নম্বর ব্লকের লতাপাতা গ্রামের এক বৃদ্ধের কাছে।
  • তাঁকে তাঁর বাবা দেবেন্দ্র চন্দ্র দাসের পরিচয়পত্র আনতে বলা হয়েছে।

ফের অসম থেকে NRC-র নোটিশ। এবার চিঠি এল কোচবিহারের মাথাভাঙা ২ নম্বর ব্লকের লতাপাতা গ্রামের এক বৃদ্ধের কাছে। নাম নিশিকান্ত দাস। বয়স পেরিয়েছে সত্তর। পেশায় খুচরো ডিম বিক্রেতা। গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডিম সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। সামান্য এই আয়েই চলে তাঁর সংসার। তাঁর দাবি, প্রায় ২৮-৩০ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে অসমে গিয়েছিলেন। তখনই ভিআইপি চৌপথি এলাকা থেকে অসম পুলিশ তাঁকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে থানায় গিয়েছিল। সেই সময় যাঁর অধীনে তিনি কাজ করতেন, তিনিই পরে পুলিশকে গিয়ে জানান যে, নিশিকান্ত দাস বাংলাদেশি নন, তিনি পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার বাসিন্দা। তারপর বাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে গিয়ে প্রমাণপত্র দেখান। সেবারের মতো পুলিশের থেকে রেহাই পান।

কিন্তু এত বছর পর যেন সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। প্রায় দেড়-দু’মাস আগে তাঁর হাতে ফরেনার্স ট্রাইবুনাল থেকে এল এনআরসির নোটিশ। নিরুপায় হয়ে বৃদ্ধ নিশিকান্ত আবার অসম যান। ১৯৬০ সালের জমির দলিল সহ নানা প্রমাণপত্র নিয়ে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট নয় কর্তৃপক্ষ।

৪৫ বছর আগে প্রয়াত বাবার পরিচয় পত্র, সেই সময়ের ভোটার লিস্ট!
এবার তাঁকে তাঁর বাবা দেবেন্দ্র চন্দ্র দাসের পরিচয়পত্র আনতে বলা হয়েছে। তিনি প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন। এর পাশাপাশি সেই সময়ের ভোটার তালিকাও এনে দেখানোর দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। দাবি শুনে মাথায় হাত নিশিকান্তর। বলছেন, 'এত পুরনো নথি আমি এখন কোথায় পাব? বাবা তো অনেক আগেই মারা গিয়েছেন!'

উত্তম কুমার ব্রজবাসী
এর আগে দিনহাটার বাসিন্দা উত্তম কুমার ব্রজবাসীর ক্ষেত্রেও এসেছিল এমনই নোটিশ। রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় রাজ্য রাজনীতিতে। একুশে জুলাইয়ের ধর্মতলার সভাতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঞ্চে তাঁকে নিয়ে আসে তৃণমূল।

২১ জুলাইয়ের মঞ্চে উত্তম কুমার ব্রজবাসী

এই আবহেই ফের নিশিকান্ত দাসের এনআরসি নোটিশ নিয়ে তৎপর হল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার, ২৬ জুলাই কোচবিহারে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। তিনি বলেন, 'আমরা ওঁর পাশে আছি। বাংলা ভাষা বলাটাই কি অপরাধ? বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি যেভাবে বাঙালিদের হয়রানি করছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা প্রতিবাদ করব, আন্দোলন চলবে।'

সংবাদদাতা: উৎপল পোদ্দার

Advertisement

Read more!
Advertisement
Advertisement