
খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর কপ্টার নামতে না পারায় শনিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমেই বক্তব্য রাখতে হয় নরেন্দ্র মোদীকে। ভাষণ শুরুর আগেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, 'জয় নিতাই। বড়দের প্রণাম। সকলকে শুভেচ্ছা। আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে পৌঁছতে পারিনি, তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।'
এরপর বক্তব্যে এসে মোদী বলেন, 'সম্প্রতি সংসদে বন্দে মাতরমের গুণগান হয়েছে। এই বাংলাতেই জন্মেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। দেশ যখন পরাধীন, তখন বঙ্কিমবাবুই বন্দে মাতরমের মাধ্যমে স্বাধীনতার মন্ত্র দিয়েছিলেন। আজ বিকশিত ভারতের মন্ত্র হয়ে উঠেছে এই বন্দে মাতরম।'
এই বক্তব্যের সূত্র ধরেই আবার উঠে আসে শীতকালীন অধিবেশনের একটি বিতর্কিত মুহূর্ত। সংসদে দাঁড়িয়ে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাতেই তীব্র আপত্তি জানান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। বিষয়টি বুঝে সঙ্গে সঙ্গেই নিজের ভুল সংশোধন করেন মোদী। হালকা হাসির সঙ্গে বলেন, 'ঠিক আছে, আমি বঙ্কিমবাবুই বলব। দাদা বলব না। আপনার অনুভূতিকে সম্মান করি।' এমনকি রসিকতা করে সৌগত রায়কে ‘দাদা’ ডাকতে পারবেন কি না, তাও প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'নদিয়া সেই ভূমি, যেখানে প্রেম, করুণা, ভক্তির রূপ হিসাবে চৈতন্যদেবের জন্ম হয়েছে। নদিয়ার গ্রামে গ্রামে কীর্তনের সুর উঠত, ঐক্যের সুর বাজত। হরিনাম দিয়ে জগৎ মাতায় আমার একলা নিতাই। সমাজকল্যাণের এই নৌকাকে মতুয়ারা আগে নিয়ে গিয়েছেন। হরিচাঁদ ঠাকুর কর্মের মর্ম বুঝিয়েছেন। গুরুচাঁদ ঠাকুর কলম ধরিয়েছেন। বড়মা মাতৃত্ব বর্ষণ করেছেন। সকলকে প্রণাম।'
এই প্রসঙ্গেই পরে কোচবিহারের সভা থেকে মোদীকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'যিনি বন্দে মাতরম লিখেছেন, তাঁকেই সম্মান দিতে জানেন না! বঙ্কিমচন্দ্রকে বঙ্কিমদা বলা হচ্ছে-যেন শ্যামদা, হরিদা! এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।'
এদিকে মোদীর সভাকে ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই তাহেরপুরে উত্তেজনার ছবি ধরা পড়ে। সভাস্থলে পৌঁছনোর আগেই বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে, পাশাপাশি বিজেপি নেতা-কর্মীদের আটকে দেওয়ার অভিযোগও করে গেরুয়া শিবির। নির্ধারিত সময়ে কলকাতা বিমানবন্দরে নামলেও দৃশ্যমানতা কম থাকায় তাহেরপুরে কপ্টার নামানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত দমদমে ফিরে এসে ভার্চুয়াল ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।