
আবহাওয়া বিভ্রাটে তাহেরপুরের সভায় আসতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফোনে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়েছেন কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, উন্নয়ন বনাম ‘মহাজঙ্গলরাজ’, ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলা তুলনা, গো ব্যাক স্লোগান ও আবহাওয়া-রাজনীতি প্রসঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী সন্ধেয় পোস্ট করে জানান, তাঁর আরও বিভিন্ন ইস্যুতে বলার ছিল। ৭৫ মিনিটের সভা মিনিট পনেরোর বার্তায় পূরণ হয়নি। তাই তিনি বাকি বক্তব্য পোস্ট করেছেন এক্স হ্যান্ডেলে।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রেক্ষিতে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে রাজ্যের মানুষ একের পর এক যন্ত্রণা সহ্য করেছেন। বিশেষ করে নারী নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ফুটবলপ্রেমী রাজ্য হিসেবে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যর্থতার কারণে আজ বারবার লজ্জার মুখে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। যুবভারতীর সাম্প্রতিক ঘটনায় বহু তরুণ ফুটবলপ্রেমীর স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছে বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করছে। এই অনুপ্রবেশকারীরাই রাজ্যের গরিব মানুষের ক্ষতি করছে, সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছে এবং নারীশক্তির উপর নৃশংস অত্যাচার চালাচ্ছে। বিজেপি সরকার গঠিত হলে এই অনাচারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
প্রসঙ্গক্রমে নদীয়ার ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন মোদী। তাঁর কথায়, ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিশ্বাসীদের কাছে নদীয়া এক পবিত্র ভূমি, যা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতিবাহী। মানুষের সেবার যে ঐতিহ্য এই মাটিতে গড়ে উঠেছে, তা মতুয়া সমাজের জীবনধারায় স্পষ্ট। নদীয়া ও সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে সৌভাগ্যের বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে মোদী জানান, পশ্চিমবঙ্গে মানুষের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দিনরাত পরিশ্রম করছে তাঁর সরকার। রাজ্যে ৫২ লক্ষেরও বেশি বাড়ি অনুমোদন করা হয়েছে, যাতে প্রত্যেকের মাথার উপর একটি স্থায়ী ছাদ নিশ্চিত করা যায়। জল জীবন মিশনের মাধ্যমে এক কোটিরও বেশি পরিবার বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুবিধা পেয়েছে। বিজেপি সরকার গঠিত হলে এই কাজ আরও দ্রুত হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও কেন্দ্রের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে ১৩ হাজারেরও বেশি আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি ৭৫০টিরও বেশি প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি কেন্দ্র থেকে কম দামে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি।
রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়ে মোদী বলেন, বিহারের মানুষ যেমন ‘জঙ্গলরাজ’ ফিরিয়ে আনতে চাননি, তেমনই পশ্চিমবঙ্গের মানুষকেও তৃণমূল কংগ্রেসের তৈরি ‘মহাজঙ্গলরাজ’ থেকে মুক্ত হতে হবে। বিজেপি সুশাসন, গতি ও উন্নয়নে বিশ্বাস করে, অথচ তৃণমূল কাটমানি ও কমিশনের রাজনীতিতেই ব্যস্ত। তাদের অসহযোগিতার কারণে আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও খাদ্য সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ থমকে রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
সবশেষে মতুয়া ও নমশূদ্র সম্প্রদায়ের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন, বিজেপি সবসময় তাঁদের পাশে থাকবে। সিএএ আইনের মাধ্যমে তাঁদের মর্যাদার সঙ্গে ভারতে বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হলে এই সম্প্রদায়ের কল্যাণে আরও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।