
দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই সাংসদদের সই সংগ্রহের কাজও শুরু হয়েছে বলে সোমবার গভীর রাতে দলীয় সূত্রে খবর সামনে আসে।
এই ঘটনার পটভূমিতে একদিকে শহরে দফায় দফায় বৈঠক করছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, অন্যদিকে কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত কয়েক মাস ধরেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তিনি সরব। একই সুর শোনা গেছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেও।
এর আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনার কথা ভাবছে তৃণমূল। পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিষয়টি নিয়ে দলীয় স্তরে আলোচনা চলছে। কারণ, এমন একটি সাংবিধানিক পদাধিকারীর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘ। বিচারপতিদের বিরুদ্ধে যেভাবে ইমপিচমেন্ট আনা হয়, প্রায় একই ধরনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এখানেও অনুসরণ করতে হয়।
সূত্রের খবর, এই প্রস্তাব আনতে হলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ৪১। তাই বাকি সমর্থনের জন্য অন্য বিরোধী দলগুলির দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করছে তৃণমূল। বিশেষ করে ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলির কাছে সমর্থন চাওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যদিও এই পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের পক্ষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনা সম্ভব নয়। সংবাদ শিরোনামে থাকার জন্যই এই ধরনের পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে।