Advertisement

Purulia News: প্রতিশ্রুতিই সার, আজও রাস্তা-জল-আবাসের আশায় পুরুলিয়ার মতিপুরের শবর টোলা

পুরুলিয়া জেলার কাশিপুর বিধানসভার অন্তর্গত মতিপুর গ্রামের শবর টোলা। আদিবাসী শবর সম্প্রদায়ের বাস এই এলাকায়। অভিযোগ, স্বাধীনতার এত বছর পরেও উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে বহু দূরে রয়ে গিয়েছে এই টোলা। ন্যূনতম পরিকাঠামোর অভাব স্পষ্ট প্রতিটি ক্ষেত্রে।

উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, রাস্তা, জল, আবাস;  তালিকা দীর্ঘ হয় প্রতিবারই। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, রাস্তা, জল, আবাস;  তালিকা দীর্ঘ হয় প্রতিবারই।
প্রীতম ব্যানার্জী
  • পুরুলিয়া,
  • 27 Feb 2026,
  • अपडेटेड 8:50 PM IST
  • পুরুলিয়া জেলার কাশিপুর বিধানসভার অন্তর্গত মতিপুর গ্রামের শবর টোলা।
  • আদিবাসী শবর সম্প্রদায়ের বাস এই এলাকায়।
  • অভিযোগ, স্বাধীনতার এত বছর পরেও উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে বহু দূরে রয়ে গিয়েছে এই টোলা।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার-পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। ভোটের আগে প্রতিশ্রুতির ঝুলি নিয়ে সাধারণ মানুষের দরজায় কড়া নাড়েন নেতানেত্রীরা। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, রাস্তা, জল, আবাস; তালিকা দীর্ঘ হয় প্রতিবারই। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির কতটা পূরণ হয়? সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে আনছে পুরুলিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রামের ছবি।

পুরুলিয়া জেলার কাশিপুর বিধানসভার অন্তর্গত মতিপুর গ্রামের শবর টোলা। আদিবাসী শবর সম্প্রদায়ের বাস এই এলাকায়। অভিযোগ, স্বাধীনতার এত বছর পরেও উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে বহু দূরে রয়ে গিয়েছে এই টোলা। ন্যূনতম পরিকাঠামোর অভাব স্পষ্ট প্রতিটি ক্ষেত্রে।

গ্রামে পৌঁছনোর জন্য নেই কোনও পাকা রাস্তা। ঝোপঝাড় ঘেরা আঁকাবাঁকা মেঠো পথই ভরসা। বর্ষাকালে সেই পথ কাদায় ভরে ওঠে, পা ফেলাই দায় হয়ে দাঁড়ায়। অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে গেলে পড়তে হয় চরম সমস্যায়। স্থানীয়দের কথায়, অ্যাম্বুল্যান্স তো দূরের কথা, মোটরবাইক নিয়েও ঢোকা যায় না অনেক সময়।

পানীয় জলেরও নেই স্থায়ী ব্যবস্থা। দূর গ্রাম থেকে জল আনতে হয় কলসি কাঁখে। গ্রীষ্মকালে সেই দুর্ভোগ চরমে ওঠে। অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের আওতায় পাইপলাইনের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তার দেখা মেলেনি।

আবাস যোজনার সুবিধা না মেলায় বহু পরিবার আজও ত্রিপল টাঙিয়ে অস্থায়ী ঘরে বসবাস করছেন। ঝড়-বৃষ্টি এলেই আতঙ্ক গ্রাস করে গোটা এলাকা। নিরাপদ বাসস্থানের অভাবে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। রাতের অন্ধকারে বন্যপ্রাণীর ভয়ও রয়েই যায়।

শিক্ষার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দুর্গম পথ পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে চায় না অনেক পড়ুয়া। ফলে স্কুলছুটের আশঙ্কা বাড়ছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। জীবিকার তাগিদে কেউ জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেন। কেউ আবার বাঁশ কিনে ঝাঁটা তৈরি করে সংসার চালান। বংশপরম্পরায় পাওয়া হস্তশিল্পই ভরসা। অল্প আয়ে কোনও মতে দিন গুজরান।

Advertisement

স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নের নানা প্রকল্পের কথা কাগজে-কলমে শোনা গেলেও বাস্তবে তার সঠিক প্রয়োগ দেখা যায় না শবর টোলায়। ফলে সমাজের মূল স্রোত থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন শবর সম্প্রদায়ের মানুষজন। ভোটের আগে আবারও বিভিন্ন দলের নেতারা নিশ্চয়ই পৌঁছবেন এই এলাকায়। প্রতিশ্রুতির বন্যা বইবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে;  বারবার আশ্বাস শুনেও বাস্তব না বদলালে কতটা ভরসা রাখবেন মতিপুরের শবর টোলার মানুষ? উন্নয়নের আলো কবে পৌঁছবে এই প্রত্যন্ত জনপদে? বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

সংবাদদাতা: সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

Read more!
Advertisement
Advertisement