Advertisement

মেসি-কাণ্ড থেকে পুলিশকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ রাজীব কুমারের, কী বললেন প্রাক্তন DGP?

এর আগের দিন আলিপুর বডিগার্ড লাইনে বিদায়ী ভাষণেও তিনি একই সুরে বলেন, 'পুলিশকে যা সংজ্ঞায়িত করে, তা হল সাহস। সাহস ছাড়া পুলিশের অস্তিত্ব নেই। আমরা এমন একটি সিভিল সার্ভিসের অংশ, যেখানে কর্তব্যের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতেও আমরা প্রস্তুত। এটাই আমাদের গর্ব।'

মেসি-কাণ্ড থেকে পুলিশকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ রাজীব কুমারের।-ফাইল ছবিমেসি-কাণ্ড থেকে পুলিশকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ রাজীব কুমারের।-ফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 31 Jan 2026,
  • अपडेटेड 11:59 AM IST
  • অবসরের একদিন আগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজীব কুমার জানান, গত ডিসেম্বরে সল্ট লেক স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানের সময় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরও দৃঢ় হতে হত।
  • তাঁর মতে, একবার যদি পুলিশ ঘোষণা করে যে আর কাউকে স্টেডিয়ামে ঢুকতে দেওয়া হবে না, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে কার্যকর করাই ছিল জরুরি।

অবসরের একদিন আগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজীব কুমার জানান, গত ডিসেম্বরে সল্ট লেক স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানের সময় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরও দৃঢ় হতে হত। তাঁর মতে, একবার যদি পুলিশ ঘোষণা করে যে আর কাউকে স্টেডিয়ামে ঢুকতে দেওয়া হবে না, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে কার্যকর করাই ছিল জরুরি।

এই ভার্চুয়াল বৈঠকে রাজীব কুমার সহকর্মী ও অধস্তন আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসারদেরও উদ্দেশ করে কথা বলেন। এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকের কথায়, 'স্যার স্পষ্টভাবে বলেছেন, ওই অনুষ্ঠানে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরও কড়া হওয়া উচিত ছিল। ভিড় সামলাতে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তা বাস্তবায়নের মধ্যেই পুলিশের দায়িত্ব নিহিত।'

উল্লেখ্য, ১৩ ডিসেম্বর সল্ট লেক স্টেডিয়ামে মেসির অনুষ্ঠান চলাকালীন নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে বহু দর্শক মাঠের খুব কাছে পৌঁছে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হন আয়োজকরা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে যান মেসি। প্রায় ১০ হাজার টাকারও বেশি খরচ করে টিকিট কেনা হাজার হাজার দর্শক হতাশ হয়ে ফিরে যান।

এই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার অভিযোগে তৎকালীন ডিজিপি রাজীব কুমার ও বিধাননগর পুলিশ কমিশনার মুকেশের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি হয়। বিধাননগরের ডেপুটি কমিশনার অনীশ সরকারকে বরখাস্ত করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়। বেঙ্গল ক্যাডারের ১৯৮৯ ব্যাচের আইপিএস অফিসার রাজীব কুমার শনিবার অবসর গ্রহণ করছেন।

ভিডিও কনফারেন্সে রাজীব কুমার বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির কারণে আজকের দিনে পুলিশি কাজ একদিকে যেমন সহজ হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে তা আরও কঠিনও হয়ে উঠেছে। 'ফোন ও সিসিটিভি কাজকে সহজ করে তুলেছে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রযুক্তি আমাদের সবসময় নজরের মধ্যে রেখেছে। আমরা যেন আতশকাচের নিচে কাজ করছি।'
বিদায়ী ডিজিপি আরও জোর দিয়ে বলেন, একজন পুলিশ সদস্যের সবচেয়ে বড় গুণ হল সাহস। তাঁর কথায়, 'সাহস মানে শুধু গুলি চালানো বা শারীরিক সংঘাতে জড়ানো নয়। সাহস মানে নিজের সিদ্ধান্তের উপর অটল থাকা এবং বিবেকের ডাকে সাড়া দেওয়া।'

Advertisement

এর আগের দিন আলিপুর বডিগার্ড লাইনে বিদায়ী ভাষণেও তিনি একই সুরে বলেন, 'পুলিশকে যা সংজ্ঞায়িত করে, তা হল সাহস। সাহস ছাড়া পুলিশের অস্তিত্ব নেই। আমরা এমন একটি সিভিল সার্ভিসের অংশ, যেখানে কর্তব্যের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতেও আমরা প্রস্তুত। এটাই আমাদের গর্ব।'

রাজীব কুমারের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দৃঢ়তা, সাহস এবং নৈতিক অবস্থানই পুলিশের প্রকৃত শক্তি, এই শিক্ষাই তিনি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষে সহকর্মীদের দিয়ে যেতে চেয়েছেন।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement