
ভরা বসন্তে সিকিমে হঠাৎ তুষারপাতের জেরে পাহাড়ি এলাকাগুলি এখন সাদা বরফের চাদরে ঢাকা। ছাঙ্গু লেক, নাথু লা পাসের পাশাপাশি উত্তর সিকিমের লাচুং ও লাচেনেও চলছে তুষারপাত। এই বিরল দৃশ্য দেখতে ইতিমধ্যেই সেখানে ভিড় জমিয়েছেন বহু পর্যটক। বরফের মধ্যে খেলাধুলা আর আনন্দে মেতে উঠেছেন তাঁরা। সিকিমের আবহাওয়া দফতরের আধিকারিক গোপীনাথ রাহা জানিয়েছেন, আগামী দু’ থেকে তিন দিন উঁচু পাহাড়ি এলাকাগুলিতে তুষারপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে দার্জিলিং ও ডুয়ার্সে বেড়াতে যাওয়া অনেক পর্যটকই এখন বরফের টানে সিকিমের দিকে ছুটছেন।
এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে লাচেন ও গুরুদংমার লেক যাওয়ার রাস্তা খুলে যাওয়ায় পর্যটকদের মধ্যে উৎসাহ আরও বেড়েছে। জানা গেছে, লাচুং, লাচেন, ছাঙ্গু ও নাথু লা, সব জায়গাতেই এখন তুষারপাত চলছে। বরফের আকর্ষণেই প্রচুর পর্যটক সিকিমমুখী হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ লোনক হ্রদে বিপর্যয়ের পর উত্তর সিকিম কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। সেই ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই গত বছরের জুনে অতি ভারী বৃষ্টির ফলে হড়পাবান ও ভূমিধসে লাচুং ও লাচেন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পুনর্গঠনের কাজ শুরু হলেও এতদিন পর্যন্ত লাচেন বন্ধই ছিল। ফলে পর্যটকদের লাচুং থেকেই ফিরে আসতে হচ্ছিল। লাচেন থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত গুরুদংমার লেকের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে না পেরে হতাশ হচ্ছিলেন বহু পর্যটক।
অবশেষে তারাম চু নদীর উপর বেইলি সাসপেনশন ব্রিজ চালু হওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে লাচেন ও গুরুদংমার লেক যাওয়ার অনুমতি মিলছে। তবে পর্যটকদের জন্য একাধিক বিধিনিষেধও জারি করেছে সিকিমের পর্যটন দপ্তর। জানানো হয়েছে, উত্তর সিকিমে ভ্রমণের জন্য আর সেদিনের দিন পারমিট পাওয়া যাবে না। অন্তত একদিন আগে আবেদন করতে হবে। এছাড়া লাচুং বা লাচেনে বেড়াতে গেলে পর্যটকদের ন্যূনতম তিন দিন দুই রাত এবং সর্বাধিক ছ’দিন পাঁচ রাতের পারমিট দেওয়া হবে।
পর্যটকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। উত্তর সিকিমে যাওয়া বা সেখান থেকে ফেরার সময় বিকেল চারটার মধ্যে টুং চেকপোস্ট পার করতে হবে। পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কেউ যদি ফিরে আসতে চান, তবে তা আগাম জানাতে হবে চেকপোস্টে।
তবে লাচুং ও লাচেনে নির্দিষ্ট এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও পর্যটকদের ঘোরাফেরা করা যাবে না। নির্দেশিকা না মানলে জরিমানাও করা হবে। লাচেন যাওয়ার পথে তারাম চু নদীর উপর নির্মিত বেইলি সাসপেনশন ব্রিজ দিয়ে একসঙ্গে একাধিক গাড়ি চলাচল করতে পারবে না। সেতুর উপর চাপ কমাতে গাড়িতে অতিরিক্ত পর্যটক তোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কম লাগেজ বহনেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে দক্ষিণবঙ্গেও। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আগামী রবিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার ও মঙ্গলবারের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সোমবার কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। মঙ্গলবার হাওয়ার গতি কিছুটা কমলেও শনিবার ও রবিবার ফের আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলায় কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে। এসব এলাকায় সোমবার বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যা কোথাও কোথাও ৭০ কিলোমিটার বেগেও পৌঁছাতে পারে। এই ঝড়বৃষ্টির প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে আগামী দু’দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দুই থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে।