
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটারদের শুনানি সংক্রান্ত কাজে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তিনি একটি হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে নির্বাচনী রোল অবজ়ার্ভার তথা ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও) উদ্দেশে এমন কিছু নির্দেশ দিয়েছেন, যা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধি ও প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, এই নির্দেশ আদতে যাচাইকরণ প্রক্রিয়াকে বিকৃত করার এক সরাসরি ও অবৈধ চেষ্টা। সঠিক যাচাই সম্পন্ন না হলেও কেবলমাত্র দৈনিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য ‘যাচাই করা হয়নি’ হিসেবে চিহ্নিত না করার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
শুভেন্দু অধিকারীর আরও অভিযোগ, এটি প্রশাসনিক ক্ষমতার নির্লজ্জ অপব্যবহার, যা তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দেশে সংগঠিত হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই, অযোগ্য ভোটার ও ভুয়া নামকে রক্ষা করা, যেগুলি টিএমসি-র ভোটব্যঙ্ক রাজনীতির স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির জন্য ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশকে বানচাল করতে জেলা প্রশাসনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রকৃত এসআইআর হলে বহুদিনের নির্বাচনী অনিয়ম প্রকাশ্যে চলে আসবে, এই আশঙ্কাতেই প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন তারা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও এই অবৈধ নির্দেশ জারি বা কার্যকর করার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে, ক্ষমতাসীন দলের নির্দেশে গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে দোষী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি তোলেন বিরোধী দলনেতা।