
স্কুল সার্ভিস কমিশন মামলায় এবার বয়সে ছাড় দেওয়া নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, ২০১৬ সালের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যাঁরা সুযোগ পাননি, তাঁরা নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বয়সে ছাড় দেওয়া নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা যে রায় দিয়েছিলেন তা আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।
SSC-র ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের নাম আনটেন্টেড তালিকায় রয়েছে অর্থাৎ যাঁরা দুর্নীতিতে যুক্ত নন, তাঁরা বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় পাবেন এবং নির্ধারিত বয়স অতিক্রান্ত হলেও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যোগ দিতে পারবেন। পাশাপাশি, গত ১২ ডিসেম্বর এই সংক্রান্ত মামলায় হাই কোর্ট জানিয়েছিল, যাঁরা দুর্নীতিতে যুক্ত নন, তাঁদের নামের কোনও তালিকা SSC আলাদা করে প্রকাশ করেনি। ফলে আপাতত যাঁদের নাম টেন্ডেট বা দাগি তালিকায় নেই, তাঁদের ক্ষেত্রেও সুপ্রিমো কোর্টের নির্দেশ প্রযোজন্য হবে। বয়সের কারণে তাঁদের কাউকে নিয়োগপ্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।
তারপরই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কয়েক জন চাকরিপ্রার্থী। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যোগ দিতে এই নতুন প্রার্থীরা বয়সে ছাড় চেয়েছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, ২০১৬ সালের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় না থাকলেও কোনও দুর্নীতির অভিযোগ নেই এই ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে। কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।
সোমবার শীর্ষ আদালত এই মামলার সব পক্ষকে নোটিস জারি করেছে। আগামী মার্চ মাসে মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। তার আগে সব পক্ষকে আদালতে হলফনামা দিতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, যাঁরা দাগি হিসাবে চিহ্নিত, তাঁরা নতুন প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে পারবেন না। বেতনও ফেরত দিতে হবে। তবে দাগিদের তালিকায় যাঁদের নাম নেই, তাঁরা নতুন প্রক্রিয়ায় সুযোগ পাবেন। বয়সের ছাড়ও পাবেন। নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নতুন প্রার্থী হিসাবে যাঁরা যোগ দিয়েছেন, আগে কখনও যাঁরা SSC পরীক্ষা দেননি, তাঁদের বয়সের ছাড় দিয়েছিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। সেই রায়ই স্থগিত করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।