
রাজ্যে যুবসাথীর ক্যাম্প শুরুর আগের দিনও তোপ দাগলেন শুভেন্দু। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে একটি 'পোস্টকার্ড' তুলে ধরলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর পরামর্শ, যুবসাথীর ফর্ম জমার সময় যেন সেই পোস্টকার্ডও জমা করেন যুবক-যুবতীরা। পোস্টকার্ডে লেখা, 'চাকরি চায় বাংলা।' এর পাশাপাশি, এদিন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সময়েই ক্যাম্পের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কটাক্ষ করেন।
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যের ২৯৪টি ক্যাম্পে যুবসাথীর ফর্ম ফিলআপ ক্যাম্প শুরু। তার আগেই শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ১৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ক্যাম্প। এদিকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। ফলে লক্ষ লক্ষ যুবককে এই সময় রাস্তায় নামতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, বর্তমানে অধিকাংশ কেন্দ্রীয় সরকারি পরিষেবা অনলাইনের মাধ্যমেই হয়। সেখানে যুবসাথীর আবেদন ক্যাম্পে গিয়ে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা অযৌক্তিক বলে দাবি করেন।
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন কেন লক্ষ লক্ষ যুবককে রাস্তায় নামতে হবে; এই প্রশ্নও তোলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর কথায়, এর আগেও রাজ্য সরকার একইভাবে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ক্যাম্প করেছে। তিনি বলেন, ২০২১ এ 'দুয়ারে সরকার' কর্মসূচি হয়েছিল। পরে সেটি 'আমার পাড়া আমার সমাধান' হয়ে যায়। এখন আবার আইপ্যাকের প্রতীক জৈনের পরামর্শে যুবসাথীর ফর্ম ফিলআপ ক্যাম্প শুরু হচ্ছে।
এ দিন যুবসমাজকে ক্যাম্পে যাওয়ার আহ্বানও জানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ফর্ম ভরা নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তবে তাঁর দাবি, 'সরকার চাকরি দিতে পারবে না।' চাকরি দেওয়ার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তবে যুবসাথীর ফর্মের সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ যুব মোর্চার একটি পোস্টকার্ড জমা দেওয়ার জন্য দেওয়াও পরামর্শ দেন শুভেন্দু। সেই ফর্মে লেখা, 'চাকরি চায় বাংলা।'
একই সঙ্গে আবেদনকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, আবেদন জমা দেওয়ার পর অবশ্যই রিসিপ্ট কপি নিয়ে নিন।