
বিধানসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না হওয়ায় দলীয় কর্মীদের একাংশকেই দায়ী করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, একুশের খারাপ ফলের জন্য দলীয় কর্মীরাই দায়ী। সেই ভুল শুধরে নেওয়ার বার্তাও দেন তিনি। আজ চণ্ডীপুরে BJP-র এক সাংগঠনিক সভায় এই কথা বলেন তিনি।
শুভেন্দুর কথায়, 'আপনাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আপনারা অনেকেই নিজেদের প্রার্থীর সম্পর্কে খারাপ কথা বলেছেন। অনেকেই আত্মতুষ্টিতে ভুগেছেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১৬টা আসন। আপনারা ভেবেছিলেন ১৭০-১৮০ টা আসন পেয়েই যাব। চণ্ডীপুর তো জিতেই গেছি। নন্দীগ্রামে তো জিতে আছি। এসব ভেবে আমরা হেরেছি।'
নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসার পর অনেকেই BJP ছেড়ে তৃণমূলে ফিরেছেন। সেই সব নিয়ে চিন্তিত হওয়ার দরকার নেই বলেও কর্মীদের বার্তা দেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি মুকুল রায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বলেন, 'মুকুলবাবু কোনওদিন কোনও ভোটে জেতেননি। ২০০১ সালে হেরেছিলেন। উনি যে আসন থেকে জিতেছেন, সেখানে BJP-র কোনও সহায়ক দাঁড়ালেও জিততেন। মুকুল রায় ছেলের ব্যবসা বাঁচাতে তৃণমূলে ফিরেছেন।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করেন শুভেন্দু। বলেন, 'স্বাধীনতার পরে ভারতে যা কোনওদিন হয়নি, এই বার সেই ঘটনা ঘটেছে। যিনি হারলেন তিনি মুখ্যমন্ত্রী আর যিনি জিতলেন তিনি বিরোধী দলনেতা। বিধানসভায় না লড়েও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। যোগী আদিত্যনাথ তার অন্যতম উদাহরণ। কিন্তু, ভোটে হেরে নির্লজ্জের মতো মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে কেউ বসেননি। যেটা এই রাজ্যে হয়েছে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ভোটে হারা মুখ্যমন্ত্রী।'
নন্দীগ্রাম আসনের পুর্ণগণনা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে একহাত নেন তিনি। বলেন, 'অনেক আশা নিয়ে নন্দীগ্রামে এসেছি্লেন। এখন বলছেন পুর্ণগণনা করতে হবে, ভোটবাতিল করতে হবে। এই মুখ্যমন্ত্রীর দু কান কাটা। তাই তিনি হেরেও পদে বসেছেন।'