
শেষ তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ সালে ১৮৪, ২০১৬ সালে ২১১ এবং ২০২১ সালে ২১৫টি আসনে জয় পেয়েছিল শাসকদল। এবার লক্ষ্য আরও বড়, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৫০টি আসন জয়ের টার্গেট নিয়েই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছে তৃণমূল। দলীয় সূত্রে খবর, এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই প্রার্থী তালিকা তৈরিতে বিশেষ কৌশল নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুধু মুখ্যমন্ত্রীই নন, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একাধিকবার দাবি করেছেন যে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের আসন সংখ্যা এবং ভোটের শতাংশ, দুটিই বাড়বে। সেই লক্ষ্যেই নবীন ও প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের মিলিয়ে প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তালিকায় একাধিক চমকও থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
সোমবার কলকাতায় মিছিল করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তার পরেই খুব শিগগিরই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে পারে তৃণমূল। সম্ভবত মঙ্গলবার বা বুধবার সেই তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।
এরই মধ্যে রবিবার নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে। এবারের ভোট হবে দু’দফায়। অতীতে যেখানে রাজ্যে আট দফায় ভোট হয়েছে, সেখানে এবার মাত্র দু’দফায় নির্বাচন হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। রাজ্যের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, 'চারটি রাজ্যে এক দফায় নির্বাচন হচ্ছে। সেখানে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় ভোট কেন? তামিলনাড়ুতে ২৩৪টি আসন, সেখানেও এক দফায় ভোট হচ্ছে। বিজেপি যদি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে কোনও চক্রান্ত করতে চায়, তা সফল হবে না।'
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'এক দফায় ভোট হলে মানুষ আরও খুশি হতেন। তবে দু’দফাতেও তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত।'
এদিকে বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্বও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার একসুরে জানিয়েছেন, ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটার বিবেচনাধীন অবস্থায় রয়েছেন, তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট করতে হবে।
তবে রাজনৈতিক মহলের মূল কৌতূহল এখন তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘিরেই। কারণ, প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল হওয়ায় হাতে সময় খুব বেশি নেই। শাসকদল হিসেবেই প্রার্থী তালিকা নিয়ে মানুষের আগ্রহও বেশি।
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, এবারের তালিকায় বড়সড় চমক দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি রাজ্যসভা নির্বাচনে যেমন মেনকা গুরুস্বামী, রাজীব কুমার এবং কোয়েল মল্লিকের নাম ঘোষণা করে অনেককেই চমকে দিয়েছিলেন তিনি। একইভাবে বিধানসভা নির্বাচনের তালিকাতেও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের জায়গা দেওয়া হতে পারে।
বর্তমানে তৃণমূলের অফিসিয়াল বিধায়ক সংখ্যা ২১৯। তবে সূত্রের খবর, তাঁদের সবাইকে আবার টিকিট দেওয়া হবে না। পারফরম্যান্স, জনসংযোগ, বয়স, অসুস্থতা এবং এলাকার মানুষের অভিযোগ, এই সব বিষয় বিবেচনা করেই প্রার্থী বাছাই করা হবে। ফলে বেশ কিছু বর্তমান বিধায়কের টিকিট কাটা পড়তে পারে।
২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছিল। সেই আসনগুলির বেশিরভাগেই এবার নতুন মুখ নামাতে পারে তৃণমূল। সব মিলিয়ে প্রায় ১০০টি নতুন মুখ দেখা যেতে পারে এবারের প্রার্থী তালিকায়। ইতিমধ্যেই বীরভূমের দুবরাজপুর কেন্দ্র নিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রাক্তন এক বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলেও সূত্রের খবর।