
আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডে মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি। তারা শকুনের মতো লাশের রাজনীতি করে, এমনটাই দাবি করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, একটি বেসরকারি গুদামে কোথায়, কী আছে তা সরকারের পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। বরং ভুল ত্রুটি হলে এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে তা সুনিশ্চিত করতে হবে। এদিন আনন্দপুরের ঘটনার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করছেন অমিত শাহ। মোমো কোম্পানির মালিক মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিদেশ সফরে প্রশ্ন তোলেন। অভিষেক পাল্টা প্রশ্ন করেন, মেহুল চোকসি, নীরব মোদীর কথা। আরও বলেন, ইন্দোরে দূষিত জল খেয়ে মানুষ মারা যাওয়ায় নরেন্দ্র মোদী দায়ী?
অমিত শাহ আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করলে পাল্টা অভিষেক বলেন, "একটা ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি। এরা শকুনের মতো, লাশের রাজনীতি করে। অমিত শাহ বলছেন আনন্দপুরের ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী, তাহলে একমাস আগে গোয়া অগ্নিকাণ্ড, ইন্দোরে জল খেয়ে মৃত্যুর ঘটনায় নরেন্দ্র মোদী দায়ী। দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করছে। বেসরকারি গোডাউনে কী আছে সরকারের পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। সরকার সক্রিয়তার সঙ্গে কাজ করেছে। গোডাউনের মালিক ও ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে সরকার গ্রেফতার করেছে। আর কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও ছাড়া হবে না।"
আগুন লাগা মোমো ফ্যাক্টরির মালিকের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিদেশ সফরের ঘটনা প্রসঙ্গে অভিষেকের দাবি, "একজন শিল্পপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিদেশ সফরে গেছেন বলে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করছে। তাহলে নীরব মোদী, মেহুল চোকসির মতো শিল্পপতি, যারা ভারতকে সর্বস্বান্ত করে ১৫, ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আছে, এরা তো নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন। ওদের সঙ্গে কার ছবি আছে? নীরব মোদীর ছবি নেই?"
এদিন রাজ্যে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখান থেকে আনন্দপুর নিয়ে মুখ খোলেন শাহ। তাঁর দাবি, "এটি কেবলমাত্র একটি দুর্ঘটনা নয়। ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, ২৭ জন নিখোঁজ।" অমিত শাহ বলেন, 'এই মোম ফ্যাক্টরির মালিক কে জানেন, বিদেশে কার সফরসঙ্গী ছিলেন জানেন? কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হল না?' মমতাকে তাঁর প্রশ্ন, 'মোমো কারখানায় আগুন, এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়, এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দুর্নীতির ফল।' আনন্দপুর কারখানা নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুললেন তিনি। অপরাধীদের জেলে পাঠানোর দাবি তুললেন। তিনি জানান, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন শুভেন্দুরা। তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। তাঁর হুঁশিয়ারি, 'অগ্নিকাণ্ডে আপনার লোক শামিল মমতাজি। জলা জমিতে গুদাম হয়েছে। তা বাইরে থেকে কেন বন্ধ ছিল? ভিতরে লোক জ্বলে পুড়ে মরেছে। বাইরে আসতে পারেননি। মমতাজি, পর্দা দিতে চাইলে দিন।'