
দুয়ারে ত্রাণ কর্মসূচিতে পশ্চিম মেদিনীপুরে জমা পড়ছে ক্ষতিপূরণের জন্য বিচিত্র আবেদনপত্র। সম্প্রতি বেশ কিছু আবেদনপত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সবংয়ের এক বাসিন্দা তাঁর আবেদনপত্রে লিখেছেন ইয়াস ঝড়ের আতঙ্কে তার ছাগল মারা গিয়েছে। আরেক গ্রামবাসী লিখেছেন ঝড়ে মাছ মারা গিয়েছে ৩ কোটি টাকার। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আবেদনপত্র খতিয়ে দেখে তারপরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুয়ারের ত্রাণ কর্মসূচিতে শিবির শুরু হয়েছে রাজ্যের অন্যান্য জেলার সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে। বহু স্থানে শিবিরে, ব্লক অফিসে আবেদনপত্র জমা দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পশ্চিম মেদিনীপুরে সেই আবেদনপত্রের ভিড়ে অবাক করা বেশ কিছু আবেদন সম্প্রতি ভাইরাল হতে শুরু করেছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। আধিকারিকদের হাতে সেই আবেদনপত্র পৌঁছাতে তা নিয়ে উঠেছে হাসির রোল। জেলা সবং ব্লকের কলন্দা গ্রামের বাসিন্দা তাপস কর। গত ৪ জুন তারিখে সবং এর বিডিও কে উল্লেখ করে একটি ক্ষতিপূরণের আবেদন পত্র জমা করেছেন। যেখানে বলা হয়েছে -" ২৬ শে মে তারিখে ইয়াস ঝড়ের কারণে আমার ছাগল আতঙ্কে মারা গেছে। ছাগলের ক্ষতিপূরণ দিলে আপনার কাছে বাধিত থাকিব। " এই আবেদন ভিডিও হাতে পেয়েছেন। রয়েছে আরো একটি, সবং এর বিলকুয়া গ্রামের বাসিন্দা রামপদ জানা আবেদন করেছেন-" আমার মাছ মারা গিয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকার। ক্ষতিপূরণ দিন।" যা রীতিমতো অবাক হওয়ার মত।
ছাগল মারা যাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারী তাপস কর বলেন-" বাড়িতে ছাগল রাখা ছিল, ঝড় বৃষ্টির রাতের আবহাওয়া এতটা ভয়ঙ্কর ছিল, যে পরে ছাগলটি মরা অবস্থায় পায়। আর অনুমান আতঙ্কেই মারা গিয়েছে ছাগলটি।তাই ক্ষতিপূরণ চেয়েছি।" এ বিষয়ে সবং এর বিডিও তুহিন শুভ্র মহান্তি জানিয়েছেন-" নানা রকমের আবেদনপত্র জমা পড়েছে, খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" এ বিষয়ে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের সবং পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আবু কালাম বক্স বলেন-" আবেদনকারীরা সকলেই সরল গ্রামবাসী। ছাগলটাও তাদের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তাই ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন এভাবে। অনেকেই আবার ৩ এর পর কটা শূন্য বসালে কত টাকা হবে তার হিসেব জানেন না। তাই ভুল করে ওই সংখ্যা লিখে ফেলেছেন। তবে যে যাই লিখুক সবটাই খতিয়ে দেখে হিসেব অনুসারে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। "গত কয়েকদিন ধরে শুরু হওয়া 'দুয়ারে ত্রাণ' শিবির গুলিতে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত দশ হাজার তিনশো টি আবেদন জমা পড়েছে। ফলে এই ধরনের আবেদনপত্র থাকলে, তা বাছাই ও ভেরিফিকেশনে অনেকটাই যে বেগ পেতে হবে প্রশাসনের অনেক কথাই তা স্বীকার করে নিয়েছেন।