
সুপ্রিম কোর্টে (I-PAC) সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বড় আপডেট। সুপ্রিম কোর্টে ইডির দায়ের করা এই মামলায় এদিন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের তরফে দায়ের করা হল একটি হলফনামা। কলকাতায় আইপ্যাক অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তল্লাশি অভিযানকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে ৩৪ পৃষ্ঠার ওই হলফনামাটি দাখিল করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে।
হলফনামায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ইডির এই পদক্ষেপের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। গোটা বিষয়টিকে সন্দেহজনক বলে হলফনামায় দাবি করেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়।
তাঁর অভিযোগ, যখন আইপ্যাক অফিসে তৃণমূল কংগ্রেসের নানা সংবেদনশীল রাজনৈতিক ডকুমেন্টস ছিল, তখনই এই তল্লাশি চালানো হয়। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের অভিযোগ, ওই ডকুমেন্টেসের মধ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীদের খসড়া তালিকাও ছিল। মমতার দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে বিরোধী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হয়রানি করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ED-র তদন্তের সময়ের প্যাটার্ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেই এই ধরনের তদন্তগুলিকে পুনরুত্থান করা হয়। বিষয়টিকে যথেষ্ট সন্দেহজনক বলেই হলফনামায় দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালীন সময়ে কিছু নথি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু এদিন হলফনামায় মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় জানুয়ারির ওই তল্লাশি অভিযান থেকে কোনও ডকুমেন্টস বা প্রমাণ কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ইডি আইপ্যাক, কোম্পানির ডিরেক্টর প্রতীক জৈন ও কয়লা কেলেঙ্কারির মধ্যে কোনও যোগসূত্র তুলে ধরতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, ইডি আসলে তদন্তের নামে প্রাইভেসি ভঙ্গের চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি শুরু হলে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে ৩৪ পাতার এই বিশদ হলফনামা জমা দেওয়া হয়। ইডির আইনজীবীরা জানান, এই হলফনামা খতিয়ে দেখে তার যথাযথ জবাব দেওয়ার জন্য তাঁদের সময়ের প্রয়োজন। ইডির সেই আবেদন মেনে নেয় সর্বোচ্চ আদালত। জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহে অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি বেলা ২টোর পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।