হঠাৎ করেই রাজ্যে এসে পড়েছে করোনা ঝড়। মঙ্গলবারই রাজ্যে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়েছে। যার মধ্যে অর্ধেক কোভিড আক্রান্ত আবার কলকাতার। রীতিমত চিন্তার ভাজ চিকিৎসক থেকে বিশেষজ্ঞ সকলের কপালেই। ইতিমধ্যে রাজ্যের পজিটিভিটি রেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮.৯৬ শতাংশ। চিকিৎসকরা বলতে শুরু করে দিয়েছেন, বাংলায় থার্ড ওয়েভের প্রভাব শুরু হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি যা তাতে প্রত্যেকদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ করোনা আক্রান্ত হতে পারেন। এই আবহে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে জারি করা হয়েছে কোভিড সংক্রান্ত নতুন গাইডলাইন। নতুন এই গাইডলাইনে - কোন পরিস্থিতিতে ভর্তি হতে হবে হাসপাতালে, হোম আইসোলেশনের নিয়ম কি, সে সম্পর্কে সঠিক দিশা দেখানোর চেষ্টা হয়েছে।
করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন অতি সংক্রামক। একুশের শেষ দিক থেকেই বলতে গেলে ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে করোনা। হাসপাতালগুলিতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে এবার এরাজ্যে করোনার চিকিৎসার জন্য নয়া নিয়ম বেঁধে দিল স্বাস্থ্য দফতর। গাইডলাইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে বর্তমানে কোভিড রোগীদেপ কী কী উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। কী ধরেণর সমস্যা হলে তাঁদের হাসপাতালে যেতে হবে। কাদের বাড়িতে আইসোলেশনে থাকলেই হবে। চলুন দেখে নেওয়া যাক কী বলা হয়েছে রাজ্য সরকারের গাইডলাইনে।
কোভিড চিকিৎসা নিয়ে রাজ্য সরকারের নতুন গাইডলাইন
- কোভিড সংক্রান্ত গাইডলাইনে কম অথবা হালকা উপসর্গ যুক্ত আক্রান্তদের হাসপাতাল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাদের হোম আইসোলেশনে থাকার কথা বলা হয়েছে।
- কারা ভর্তি হবেন হাসপাতালে সেই ব্যাপারেও নির্দিষ্ট গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি বা তার বেশি কমপক্ষে সাত দিন বা তার বেশি জ্বর, সেই সঙ্গে পালস রেট কম এমন কোভিড আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তির কথা বলা হয়েছে।
মলনুপিরাভির-ককটেল থেরাপি নিষিদ্ধ হল
মঙ্গলবার রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা। আর সেই বৈঠকের পর আপাতত মলনুপিরাভিরের মতো ট্যাবলেট ব্যবহার না করার জন্যে বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি থেরাপি (ককটেল থেরাপি) ব্যবহার না করার কথাও বলা হয়েছে। যদিও এর আগে এগুলি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে এই বিষয়ে কোনও গাইডলাইন দেওয়া হয়নি বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর। আর সেই কারনে এই পদক্ষেপ বলে দাবি।
হোম আইসোলেশন গাইডলাইন
করোনা আক্রান্তদের বেশিরভাগকেই বাড়িতে আইসোলেশনে থাকতে হচ্ছে। এই অবস্থায় বাড়িতে নিভৃতবাস কাটাতে হলে কী কী নিয়ম মেনে চলতে হবে, বুধবার, ৫ জানুয়ারি তা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। চলুন দেখে নেওয়া যাক সেই নিয়ম।
- কোভিড আক্রান্তকে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে পৃথক ভাবে আইসোলেশনে থাকতে হবে। বিশেষত বয়স্কদ ও যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা, কিডনির অসুখ, হার্টের সমস্যা প্রভৃতি কো-মর্বিডিটি রয়েছে এমন পরিজনদের থেকে দূরে থাকতে হবে।
- যে কক্ষে করোনা আকান্ত রোগী থাকবেন, সেই ঘরে যথেষ্ট আলো বাতাস চলাচলের সুযোগ থাকতে হবে। খোলা রাখতে হবে জানালা।
- রোগীকে সর্ব ক্ষণ ত্রিস্তরীয় মাস্ক পরতে হবে। আট ঘণ্টা অন্তর বা মাস্ক ভিজে গেলে বদলে ফেলতে হবে। অন্য কেউ ঘরে প্রবেশ করলে পরতে হবে এন ৯৫ মাস্ক। ব্যবহৃত মাস্ক ফেলার আগে সেটিকে দু’টুকরো করে কোনও একটি আবর্জনার ব্যাগে রাখতে হবে ন্যূনতম ৭২ ঘণ্টা।
- রোগীকে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল বা ফলের রস বা অন্য স্যুপ, চা জাতীয় পানীয় পান করতে হবে।
- শ্বাস প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে সব প্রয়োজনীয় নিয়ম পালন করতে হবে।
- অন্তত ৪০ সেকেন্ড ধরে সাবান বা অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।
- রক্তের অক্সিজেনের পরিমাণ মাপতে হবে পালস অক্সিমিটার ব্যবহার করে।
- প্রতিনিয়ত মাপতে হবে দেহের তাপমাত্রা। ৩ দিনের বেশি ১০০ ডিগ্রি তাপমাত্রার জ্বর থাকলে, রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ বা ‘এসপিওটু’ ৯৩ শতাংশের কম হয়ে গেলে, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি কিংবা মানসিক সমস্যা দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব যোগাযোগ করতে হবে চিকিৎসকের সঙ্গে।
কখন বুঝবেন বিপদ বাড়ছে?
- রাজ্য সরকারের প্রকাশিত গাইডলাইনে বলা হয়েছে- ৬০ বছরের উর্ধ্বে হার্টের রোগ, ফুসফুস, লিভার ও কিডনিতে রোগ, ডায়াবেটিস, ওবিসিটি, ক্রনিক লিভার ডিজিজ, সিওপিডি ও ক্যানসার রোগীদের সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
- সাত দিন ধরে টানা জ্বর থাকলে সর্তক হতে হবে।
- বারে বারে জ্বর ও শ্বাস নিতে সমস্যা।শ্বাসের হার মিনিটে ২৪-এর বেশি।
- অক্সিজেন স্যাচুরেশনের লেভেল ৯৪ এর কম।
- প্রচণ্ড কাশি, মাথা ব্যথা ও বুকে ব্যথা।
- মানসিক অস্থিরতা, প্রচণ্ড দুর্বলতা, ঝিমুনি ও নতুন উপসর্গ দেখা দিলে কোভিড আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।