
অনুমোদনহীন ই-রিকশা বা টোটো নথিভুক্তিকরণের সময়সীমা ফের এক দফা বাড়াল রাজ্য পরিবহণ দফতর। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। ফলে বাধ্যতামূলক অনলাইন এনুমারেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে টোটো মালিকরা আরও এক মাস অতিরিক্ত সময় পাচ্ছেন।
পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন টোটো সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট মহল দীর্ঘদিন ধরেই সময় বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছিল। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ অক্টোবর রাজ্যে টোটো নথিভুক্তিকরণের জন্য অনলাইন পোর্টাল চালু হয়। ওই পোর্টালের মাধ্যমে টোটো মালিকদের অস্থায়ী এনুমারেশন নম্বর দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথম দফায় শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর, পরে তা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর করা হয়। এবার ফের এক দফা সময়সীমা বাড়াল রাজ্য সরকার।
পরিবহণ সচিব সৌমিত্র মোহনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যে বিপুল সংখ্যক টোটো নথিভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে একসঙ্গে বহু আবেদন জমা পড়লে অনলাইন পোর্টালে প্রযুক্তিগত চাপ তৈরি হতে পারে। এই বিষয়গুলি বিবেচনা করেই অন্তত আরও এক ক্যালেন্ডার মাস সময় বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেছে দফতর।
এই এনুমারেশন প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলাচলকারী অনুমোদনহীন ও স্থানীয়ভাবে তৈরি টোটোগুলিকে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মধ্যে আনা। পরিবহণ দফতরের মতে, এর ফলে সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। নথিভুক্ত টোটোগুলিকে ডিজিটাল অস্থায়ী এনুমারেশন নম্বরের পাশাপাশি একটি কিউআর কোডযুক্ত স্টিকার দেওয়া হবে, যা গাড়িতে প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক।
নিয়ম অনুযায়ী, টোটো মালিকদের প্রথম ছয় মাসের জন্য এক হাজার টাকা এনুমারেশন ও নির্দিষ্ট এলাকায় চলাচলের অনুমতি ফি দিতে হবে। সপ্তম মাস থেকে প্রতি মাসে একশো টাকা করে ফি ধার্য থাকবে। যদিও রাজ্যে মোট কতগুলি টোটো চলছে তার নির্দিষ্ট হিসাব নেই, পরিবহণ দফতরের অনুমান এই সংখ্যা কমপক্ষে দশ লক্ষের কাছাকাছি। তবে এত বিপুল সংখ্যার তুলনায় নথিভুক্তিকরণে এখনও সাড়া তুলনামূলকভাবে কম বলেই দফতরের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।