
মাঘের শুরুতেই যেন শীতের উলটপুরাণ। কনকনে ঠান্ডা কার্যত উধাও, ক্রমশ তার জায়গা দখল করছে উষ্ণতা। কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় বেলা বাড়তেই শীতের পোশাক গায়ে রাখা দায় হয়ে পড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, এবার কি মাঘ মাসেই উষ্ণতার ছোঁয়া মিলবে? তার মধ্যেই সামনে সরস্বতী পুজো। বাগদেবীর আরাধনার দিনে আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা নিয়েই কৌতূহল ও দুশ্চিন্তা দুই-ই বাড়ছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস কিন্তু খুব একটা স্বস্তির নয়। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, সরস্বতী পুজোর সময় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন, দু’ধরনের তাপমাত্রাই কিছুটা বাড়তে পারে। অর্থাৎ, সকালে ও রাতে শীতের হালকা আমেজ থাকলেও দিনের বেলায় গরমের অস্বস্তি স্পষ্ট হবে।
বুধবার কলকাতার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় দেড় ডিগ্রি বেশি ছিল। এদিন মহানগরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ১৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছে ২৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহবিদদের মতে, আগামী দু’দিনে তাপমাত্রা আরও কিছুটা বাড়তে পারে। তাই সরস্বতী পুজোয় কপালে ঘাম জমার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ভোর ও রাতের দিকে শীতের ছোঁয়া মিললেও, বেলা বাড়তেই সেই আমেজ মিলিয়ে যাচ্ছে। রোদের তেজে বাড়ছে অস্বস্তি। অনেকেরই আঁটসাঁট শীতের পোশাকে মৃদু ঘাম অনুভূত হচ্ছে।
তবে প্রশ্ন হল, মাঘের কনকনে শীত হঠাৎ উধাও হয়ে গেল কেন? আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝাই এর মূল কারণ। গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে পাঞ্জাব ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে একটি সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝা রয়েছে, যা উত্তুরে হাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরও একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢোকার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। এর ফলেই মাঘের শীত কার্যত খুঁড়িয়ে চলছে।
উত্তরবঙ্গ ও রাজ্যের পশ্চিমের জেলাগুলিতে তুলনামূলকভাবে শীতের আমেজ কিছুটা বেশি থাকলেও, সেখানেও সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে। দার্জিলিং ও পার্বত্য এলাকায় তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে। উত্তরবঙ্গে ভোরের দিকে আপাতত ঘন কুয়াশার দাপট দেখা যাবে না বলেই জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।