
বৃহস্পতিবার কলকাতায় ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের দফতর ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশি নিয়ে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হলেও, এ বিষয়ে নীরব ছিলেন অভিষেক। রাজনৈতিক মহলের মতে, তা ছিল কৌশলগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু শুক্রবার দিল্লিতে তৃণমূলের সাংসদদের উপর দিল্লি পুলিশের আচরণে আর চুপ থাকতে পারেননি তিনি। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চলাকালীন সাংসদদের কার্যত হেনস্থা ও চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান অভিষেক।
সোশাল মিডিয়ায় নিজের পোস্টে তিনি লেখেন, 'আজ গণতন্ত্র তিরস্কৃত, অপরাধীরা পুরস্কৃত। কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের জেলে পাঠানো হচ্ছে, আর ধর্ষকদের সহজে জামিন দেওয়া হচ্ছে। এটাই বিজেপির নতুন ভারত।'
বিজেপির উদ্দেশে তাঁর কড়া বার্তা, 'গোটা দেশ আত্মসমর্পণ করলেও বাংলা রুখে দাঁড়াবে। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে আমরা লড়ব এবং তোমাদের হারাব। যতই শক্তি প্রয়োগ করো না কেন।'
আই-প্যাকের অফিস ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযানের প্রতিবাদে শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দফতরের সামনে ধরনায় বসেন তৃণমূল সাংসদরা। অভিযোগ, সেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও বাধা দেয় দিল্লি পুলিশ। বচসার পর ডেরেক ও’ ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, শতাব্দী রায়, সাকেত গোখলে, মমতা ঠাকুরের মতো একাধিক সাংসদকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। মহিলা সাংসদদেরও চ্যাংদোলা করে সরিয়ে দেওয়ার ছবি ছড়িয়ে পড়ে সোশাল মিডিয়ায়, যা নিজেই শেয়ার করেন অভিষেক।
আই-প্যাক ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই সরব হয়েছেন এবং তাঁর নির্দেশে দল বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। নীরব থাকলেও, শুক্রবার অভিষেক স্পষ্ট করলেন-এজেন্সির অপব্যবহার ও সাংসদদের উপর বলপ্রয়োগ কোনওভাবেই মেনে নেবে না তৃণমূল। তাঁর কথায়, এই লড়াই শুধু দলের নয়, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই।