সন্ধ্যা হলেই সুন্দরী রমণীদের নাচ গান! চলছে মদ্যপান, উড়ছে টাকা। মহাপ্রভুর পিঠস্থান অদ্বৈত পাঠের ঢিল ছোড়া দূরত্বে পানশালা তৈরি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। এক মাসের মধ্যেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বললেন বিধায়ক। বিধায়কের লজ্জা হওয়া উচিত পালটা দাবি বিজেপি সাংসদের। ঘটনাটি নদীয়ার শান্তিপুর থানার গোবিন্দপুর বাবলা এলাকার। জানা যায় শান্তিপুর থানার বাবলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাশেই একটি হোটেলে নতুন করে শুরু হয়েছে পানশালা। যেখানে বেশ কয়েকদিন ধরে সন্ধ্যা হলেই যুবতীদের আনাগোনা। চলছে গান বাজনা। আর সেখানে ই মদের গ্লাসে চুমুক দিয়ে রঙিন জগতে ভেসে যাচ্ছে যুব সমাজ, দেদার উড়ছে টাকা। শান্তিপুর বহু প্রাচীন শহর। শান্তিপুরের কৃষ্টি সাংস্কৃতির ইতিহাসে আগে কখনও এই ধরনের পানশালার অনুমতি দেইনি কোন সরকার। শুধু তাই নয় যেখানে ঢিল ছোড়া দূরত্বে রয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েত, বিদ্যালয়, পাশাপাশি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যেখানে এসে বিশ্রাম নিতেন সেই অদ্বৈত পাঠ। এই অদ্বৈত পাঠে গোটা দেশ থেকে ভক্তরা আসেন দর্শন করতে। আর সেই রকম একটি জায়গায় কিভাবে বানশালার অনুমতি দিল সরকার তাই নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। পরিবেশ কর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এ বিষয়ে। যদিও আইনত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী। তিনি বলেন, ওই হোটেলটি কুড়ি বছর আগে চালু হয়েছিল তখন বিরোধীরা কোথায় ছিল? আমি আইন পরিষদের একজন সদস্য। সেই কারণেই আমি কি পদক্ষেপ নেব সেটা নিশ্চয়ই ঢাক ডোল পিটিয়ে করবো না। আগামী এক মাসের মধ্যেই কি ব্যবস্থা নিয় সেটা সকলের সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে। এ বিষয়ে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন রানাঘাট কেন্দ্রে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। তিনি বলেন, কাীভাবে ওইরকম একটি জনবহুল এলাকায় পানশালার অনুমতি দিল সরকার। পাশাপাশি তিনি বলেন যে বিধায়ক বর্তমানে শান্তিপুরে রয়েছে অদ্বৈত পাঠ তাদের বংশধরের। লজ্জা হওয়া উচিত এই পানশালার অনুমতি নিয়ে তাকে। এ বিষয়ে এ আই ডি ওয়াই ও সংগঠনের তরফ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে শান্তিপুর থানায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক তরজার পর শান্তিপুরের ঐতিহ্য সংস্কৃতি বজায় রেখে আদেও এই ধরনের পানশালা বন্ধ হয় কিনা সেটা এখন দেখার।