
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ আরও তীব্র আকার নিচ্ছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, শুক্রবার তারা ইসলামাবাদের একটি পাক সেনাঘাঁটিতে এয়ারস্ট্রাইক চালাল। X-এর একটি পোস্টে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে, আফগান বিমান বাহিনী স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে ইসলামাবাদের ফৈজাবাদ এলাকায় 'হামজা' নামে একটি স্ট্র্যাটেজিক সেনাঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
তালিবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতি অনুসারে, ড্রোন বিমান ব্যবহার করে এই আক্রমণ চালানো হয় এবং সামরিক কেন্দ্রের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। মন্ত্রক দাবি করেছে, এই আক্রমণে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। একটি পৃথক পোস্টে, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, আক্রমণে ঘটনাস্থলে ওই সেনাঘাঁটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, যার মধ্যে কমান্ড সেন্টার, ডিপো এবং সৈন্যদের থাকার ঘর রয়েছে।
পাকিস্তানের হামলার জবাব
বিতর্কিত ডুরান্ড লাইনে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে এই হামলাটি ঘটল, সাম্প্রতিক দিনগুলিতে এই দুই পক্ষ বিমান ও মর্টার হামলা চালিয়েছে। এর আগে, পাকিস্তান কাবুল, পাকতিয়া এবং কান্দাহারে বিমান হামলা চালিয়েছিল, দাবি করেছিল, তারা সন্ত্রাসবাদীদের আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল। পাকিস্তান এই অভিযানের নাম দেয় 'গজব লিল হক'।
এদিকে, আফগানিস্তান দাবি করছে, কাবুলের আবাসিক এলাকায় হামলাগুলি ঘটেছে, যেখানে চারজন নিহত এবং এক ডজনেরও বেশি আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, আফগানিস্তানে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সহায়তা মিশন জানিয়েছে, কাবুলের পুল-ই-চারখি এলাকায় হামলায় সাধারণ নাগরিকদের হতাহত এবং সম্পত্তির ক্ষতি করেছে। আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এই হামলার নিন্দা করেছে এবং তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ অতীতে সতর্ক করেছিলেন, পাকিস্তানকে শাস্তি পেতে হবে।
ইসলামাবাদে নিরাপত্তা বাড়ল
হামজা সেনাঘাঁটিতে হামলার অভিযোগের বিষয়টি পাকিস্তান নিশ্চিত করেনি। তবে এই ঘটনার পর ইসলামাবাদে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইসলামাবাদের প্রবেশপথগুলিতে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন। ইসলামাবাদের দিকে যাওয়ার বেশ কয়েকটি রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে।
ইতিমধ্যে, চিন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত বিদেশমন্ত্রী মোল্লা আমির খান মুত্তাকি চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। চিন উভয় পক্ষকে সামরিক সংঘাত এড়াতে পরামর্শ দিয়েছে।