
ভারতের পথেই হাঁটতে চলেছে আফগানিস্তান। এ বার তারাও পাকিস্তানের জল আটকাবে বলে জানিয়েছে সেই দেশের সরকার। তালিবানের ডেপুটি তথ্যমন্ত্রী মুজাহিদ ফারাহি এই বিষয়টা নিয়ে একটি ঘোষণা করছেন। তিনি জানিয়েছেন, কুনার নদীর উপর একটি বাঁধ তৈরি করতে চলেছে আফগানিস্তান। এই বিষয়ে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছেন সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা শেখ হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। আর এই কুনার নদী বয়ে গিয়েছে পাকিস্তানের ভিতর দিয়ে। এটা পাকিস্তানের অন্যতম বড় জলের উৎস। তাই এই নদীতে বাঁধ তুলে দিলে যে আদতে পাকিস্তান সমস্যায় পড়বে, এই কথা তো বলাই বাহুল্য!
কী জানালেন মুজাহিদ ফারাহি?
তালিবান সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত এই কাজে হাত দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থার জন্য অপেক্ষা না করে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ কোনও সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে জল এবং শক্তিমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল লতিফ মানসুর বলেন, 'নিজের জলসম্পদকে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সেটা বুঝে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে আফগানিস্তানের।' অর্থাৎ বার্তা স্পষ্ট। পাকিস্তানকে জলে মারতে চাইছে তালিবানরা। সেই কারণেই গড়ে তোলা হচ্ছে বাঁধ।
অভ্যন্তরীণ সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করার নির্দেশ এসেছে
এই বিষয়টা নিয়ে মুখ খোলেন মুজাহিদ ফারাহি। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন, এই বাঁধ তৈরির জন্য কোনও বিদেশি সংস্থার জন্য অপেক্ষা করা হবে না। বরং যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করতে হবে। আর সেই কারণে কুনার নদীর উপর বাঁধ তৈরির জন্য আফগানিস্তানের কোনও অভ্যন্তরীণ সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করতে চাইছেন।
কোনও কথা শুনতে নারাজ তারা
এই বাঁধ তৈরির বিষয়টা সামনে আসার পরই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আওয়াজ তোলা হয়। তবে সেই বিষয়ে কর্ণপাত করতে নারাজ তালিবান সরকার। তারা মনে করেন,নিজের জল সম্পদ নিয়ে কী করা হবে, সেটা ঠিক করার পূর্ণ স্বাধীনতা তাদের রয়েছে।
ভারতও জল চুক্তি বাতিল করেছে
পেহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কে বেড়েছে উত্তাপ। ইতিমধ্যেই ভারতের পক্ষ থেকে সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে পাকিস্তানের কাছে জল দিতে আর বাধ্য নয় ভারত। যার ফলে পাকিস্তান জল কষ্টে ভুগতে শুরু করেছে। আর ভারতের দেখাদেখি একই চাল দিল আফগানিস্তান। তারাও নিজেদের জল আর পাকিস্তানকে দিতে রাজি নয়। এখন দেখার পাকিস্তান এই উভয় সংকট কীভাবে সামলায়।