
আমেরিকার পর এবার চিন। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন ও যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করেছে তারাই। দাবি করল শি জিনপিংয়ের দেশ। তাদের দাবি, এশিয়া মহাদেশের ওই দুই দেশের মধ্যে শান্তি ও সুস্থিরতা ফিরিয়ে আনতে মধ্যস্থতা করেছে তারাই। যদিও ভারত সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
সম্প্রতি এই মন্তব্য করেছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াংই। তাঁর দাবি, ওই দুই দেশ হটস্পটের তালিকায় ছিল। সেটা তাঁরা জানতেন। তাই মধ্যস্থতা করেছেন। প্রসঙ্গত,বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে সাহায্য করে থাকে চিন। এমনকী তাদের যুদ্ধের জন্য অস্ত্রও সরবরাহ করে থাকে। সেই চিনের এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই।
বেইজিংয়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং চিনের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ে বক্তৃতা করছিলেন ওয়াংই। সেখানেই তিনি বলেন, 'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর, এই বছর স্থানীয়স্তরের যুদ্ধ এবং সীমান্ত সংঘাত বেশ ঘন ঘন দেখা গিয়েছিল। এতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ছড়াচ্ছিল। সেই সবদিকে খেয়াল রেখে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। পদক্ষেপ নিয়েছি।'
এরপরই চিনা বিদেশমন্ত্রী দাবি করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁরা কাজ করেছেন। সেই তালিকায় রয়েছে ভারতও। বলেন, 'বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আমরা উত্তর মায়ানমার, ইরানের পারমাণবিক সমস্যা, পাকিস্তান-ভারতের মধ্যে উত্তেজনা, ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের মধ্যে সমস্যা সমাধানে মদ্যস্থতা করেছি।'
গত মে মাসে পহলগাঁওয়া সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রতিবাদে অপারেশন সিঁদুর চালায় ভারত। তারপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। যুদ্ধের সম্ভাবনাও দেখা যায়। চারদিন ধরে অচলাবস্থা চলে। আমেরিকা দাবি করেছিল, তারাই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতা করে উত্তেজনা প্রশমিত করেছে। যদিও ভারত সাফ জানিয়ে দেয়, তৃতীয় কোনও পক্ষের সাহায্য তারা নেয়নি। দুই দেশের জিজিএমওরা বৈঠক করায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কোনও সুযোগ ছিল না।
এদিকে চিন এখন ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি স্থাপনে মধ্যস্থতা করেছে বলে দাবি করলেও সত্যিটা হল, অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী সময়ে শেহবাজ শরিফের সরকার চিনের অস্ত্রের প্রশংসা করেছিল। তার বাস্তব ভিত্তিও আছে। কারণ, পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে চিনা অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে। চিনই পাকিস্তানকে সবথেকে বেশি অস্ত্র সরবরাহ করে থাকে। প্রায় ৮১ শতাংশ।
এদিকে চিনের এই দাবি ইতিমধ্যেই খণ্ডন করেছে ভারত। সূত্রের দাবি এমনটাই। ভারতের তরফে দাবি করা হয়েছে, তারা আগেও এই নিয়ে কথা বলা হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সরাসরি দুই দেশের ডিজিএমওদের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। এতে তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা ছিল না।