
যত কাণ্ড তেল নিয়ে। সেই কারণেই আমেরিকার ভেনেজুয়েলা দখল। শুধু তাই নয়, রাশিয়ার থেকে তেল না কেনার জন্য ভারতের উপর লাগাতার চাপ বাড়ানো। আর এমন পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা থেকে ভারতকে তেল কেনার ছাড়পত্র দিতে চায় আমেরিকা বলে ট্রাম্প প্রশাসনের এক সিনিয়র আধিকারিক জানিয়েছেন।
এই অধিকারিককে প্রশ্ন করা হয়, ভারতে তো তেলের চাহিদা খুব বেশি, তাহলে কি ভেনেজুয়েলা থেকে কিনতে পারবে মোদী সরকার? আর সেই প্রশ্নের চটজলদি উত্তর দিয়ে সেই অধিকারিক জানান, নিশ্চয়ই পারবে। তিনি আরও খোলসা করেন যে, মার্কিন এনার্জি সেক্রেটরি ক্রিস্টোফার রাইট পৃথিবীর প্রায় সব দেশকেই ভেনেজুয়েলার তেল বেচা হবে বলে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন। তবে সেক্ষেত্রে একটা শর্ত রয়েছে।
কী শর্ত?
ফক্স বিজনেসকে দেওয়া একটা সাক্ষাৎকারে রাইট দাবি করেন, আমেরিকা ভেনেজুয়েলার তেল সারা পৃথিবীতেই বিক্রি করতে চায়। কিন্তু সেটা করতে চায় একটা নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে। এই তেলের মার্কেটিং করা হবে আমেরিকার সরকারের দ্বারা। আর তেল বেচে যে টাকা আসবে, সেটা যাবে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক তেল সংস্থার সঙ্গে শুক্রবার একটি মিটিং করেছেন। তিনি সেই মিটিংয়ে দাবি করেন যে শীঘ্রই এমন একটা চুক্তি করা সম্ভব হবে যেখানে আমেরিকার তেল সংস্থারা ভেনেজুয়েলাতে গিয়ে কাজ করতে পারবে। সেখানে পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারবে।
এই মিটিংয়ে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে আমেরিকার সংস্থারা ভেনেজুয়েলাতে ন্যূনতম ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করবে। তৈরি করা হবে পরিকাঠামো।
এই সভা থেকে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনা অভিযানেরও প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'আমি সেনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাঁরা দারুণ কাজ করেছে।'
তিনি এই সভাতে আরও একবার স্পষ্ট করে দেন যে ভেনেজুয়েলার তেলে ভেনেজুয়েলারই আর কোনও অধিকার নেই। তেল সংস্থারা সরাসরি আমেরিকার সঙ্গেই কথা বলে চুক্তি করবে, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নয়। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনিই ঠিক করবেন কখন তেল সংস্থারা ভেনেজুয়েলা যাবে।
ডোনাল্ড আরও জানান, গতকাল ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভেনেজুয়ালা থেকে এনেছে আমেরিকা। পাশাপাশি আরও ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল ভেনেজুয়েলা থেকে নিয়ে এসে রিফাইন করে বিক্রি করা হবে বলেও জানান তিনি। সেই কারণে পরের সপ্তাহেই তেল সংস্থাগুলির সঙ্গে আরও একবার মিটিং হবে।