
Antarctica Long Nights: ইউরোপের কনকর্ডিয়া রিসার্চ স্টেশনের ১২ জন বিজ্ঞানী, পর্যটক এবং সেখানকার বাসিন্দারা আগামী ছয় মাসের জন্য আর সূর্যের দেখতে পাবেন না। কারণ, ছয় মাসের জন্য সূর্যাস্ত হয়েছে অ্যান্টার্কটিকায়। আগামী ছয় মাস অন্ধকারে ডুবে থাকবে অ্যান্টার্কটিকার এই অঞ্চল। পৃথিবীর সব জায়গায় সূর্য উঠলেও, অ্যান্টার্কটিকার এই জায়গায় ছয় মাস থাকবে শুধুই অন্ধকার। গ্রীষ্মের দাবদাহে যেখানে জ্বলছে দেশবাসীর, সেখানে ঠান্ডায় কাঁপবে অ্যান্টার্কটিকাবাসী।
আসলে এই চার থেকে ছয় মাসের শীত বিজ্ঞানীদের জন্য উপহারের চেয়ে কম নয়। এই ঋতুতে অ্যান্টার্কটিকায় সবচেয়ে বেশি গবেষণা করা হয়। অনুসন্ধান করা হয়। আগামী ছয় মাস ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং এর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের গবেষণা করবেন। এই বছরের শেষ সূর্যাস্ত ১২ মে ২০২২- এ অ্যান্টার্কটিকায় দেখা গিয়েছিল। সূর্য অস্ত গেলে কনকর্ডিয়া রিসার্চ স্টেশনের চারপাশের তাপমাত্রা মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত চলে যায়।
অ্যান্টার্কটিকায় কেউ যাবে না, কেউ আসবে না
এই ছয় মাস, কেউ অ্যান্টার্কটিকা থেকে বের হবে না। কিংবা বাইরে থেকে কেউ আর সেখানে যাবে না। অ্যান্টার্কটিকায় কোনও বিমান যাবে না। থাকবে না কোনও খাবার-দাবার সামগ্রী। এখনও পর্যন্ত যা সংগ্রহ করা হয়েছে তার সাহায্যে এই ১২ জনের জীবন কাটবে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উচ্চতা ও ঠান্ডার কারণে মানুষের মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। একে ক্রনিক হাইপোবারিক হাইপোক্সিয়া বলা হয়।
অ্যান্টার্কটিকায় মাত্র দুটি ঋতু রয়েছে - গ্রীষ্ম এবং শীত
ESA-এর মেডিক্যাল ডাক্তার যিনি রিসার্চ স্টেশনে সকলের খেয়াল রাখার কাজ করেন। তিনি বলেন, আসল মিশন এখন শুরু হয়েছে। আগামী ৫ থেকে ৬ মাস পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন মনে হবে। মনে হয় অন্য গ্রহে রয়েছেন। যেখানে সমগ্র বিশ্ব চারটি ভিন্ন ঋতু উপভোগ করে, সেখানে অ্যান্টার্কটিকায় মাত্র দু'টি ঋতু রয়েছে। একটি গ্রীষ্ম এবং অন্যটি শীতকাল। এজন্য ৬ মাস অন্ধকার এবং ছয় মাস আলো থাকে।
অ্যান্টার্কটিকার গ্রীষ্মে আলো এবং শীতকালে অন্ধকার, এটিই প্রকৃতির রীতি। অ্যান্টার্কটিকায় এত দীর্ঘ শীত এবং অন্ধকারের কারণে পৃথিবী তার অক্ষের উপর ঘুরছে। যেখানে পৃথিবীর একটি বড় অংশ সরাসরি সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসে, অ্যান্টার্কটিকা এই জিনিস থেকে বঞ্চিত।