
পিছিয়ে গেল আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইকে সমাধিস্থ করার প্রক্রিয়া। ইরানের স্থানীয় সময় অনুযায়ী, বুধবারই সকাল ১০টা নাগাদ তাঁকে কবর দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সেই কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। জাতীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, মাত্রাতিরিক্ত মানুষের জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় সমাধি দেওয়ার কর্মসূচি আপাতত হচ্ছে না। তবে কি ইরানের সদ্য প্রয়াত সুপ্রিম লিডারের শেষযাত্রায় শত্রুদেশের বড়সড় অ্যাটাকের পরিকল্পনা আঁচ করতে পারল ইরান?
ইরানের টেলিভিশন রিপোর্টে বলা হয়েছে, শহিদ ইমামের সমাধি প্রক্রিয়া আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নতুন তারিখ শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে। ইরানের সংবাদসংস্থা তাসনিম জানাচ্ছে, প্রযুক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে স্মরণসভা।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে ইরানে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) জানিয়েছিল, খামেনেইকে দাফনের আগে রাজধানী তেহরানে একটি বিশাল বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। সেই অনুষ্ঠানেই মাত্রাতিরিক্ত ভিড় এবং সেই ভিড়ের মাঝে শত্রুদেশের আক্রমণের আশঙ্কাতেই এই কর্মসূচি পিছনো হল বলে অনুমান আন্তর্জাতিক মহলের।
মাশহাদকেই বেছে নেওয়া হয়েছে খামেনেইয়ের মরদেহ দাফন করার জন্য। মাশহাদ শহরটির সঙ্গে খামেনেই পরিবারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৩৯ সালে এই শহরেই জন্ম হয়েছিল আলি খামেনেইয়ের। তাঁর বাবা শিয়া ইসলামের একজন ধর্মগুরু ছিলেন। তাঁকেও মাশহাদের ইমাম রেজা দরগাহের কাছে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।
ইরানের এই সুপ্রিম লিডারকে হত্যার মধ্যে দিয়েই সংঘাত শুরু হয় মধ্যপ্রাচ্যে। একদিকে ইরান আর অপরদিকে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ ফোর্স। ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের ৮ থেকে ১০টি দেশও জড়িয়ে পড়ে এই যুদ্ধে। ৫ দিন পেরিয়ে গিয়েছে এই যুদ্ধের। ইতিমধ্যেই ইরানে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।