
ইরান কখনওই পরমাণু হাতিয়ার বানাতে চায় না। এটা ইসলামে হারাম। এমনটাই জানালেন ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের প্রতিনিধি ডাঃ আবদুল মাজিদ হাকিম ইলাহি।
তিনি খোলসা করেছেন যে ইরান চায় মানবকল্যানে সুষ্ঠুভাবে পরমাণু শক্তি ব্যবহার করতে। এক্ষেত্রে চিকিৎসা থেকে শুরু করে সামাজিক উন্নয়নেই তাঁরা এই শক্তি ব্যবহার করতে চান বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির দ্বিচারিতা
ডাঃ আবদুল মাজিদ হাকিম ইলাহি একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সংবাদ সংস্থা ANI-কে। সেখানে তিনি জানিয়েছেন যে আন্তজার্তিক সংস্থাগুলি খালি দ্বিচারিতা করে যায়। এই প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির দিকে সবসময় নজর থাকে। কিন্তু অন্যান্য দেশ পরমাণু কর্মসূচি নিলেও তার উপর কোনও কঠোরতা দেখানো হয় না।
এমতাবস্থায় তিনি গত বছরে আমেরিকার বিমানহানার কথাও তোলেন। তিনি জানান, আমেরিকা এবং ইজরায়েল ইরানের পরমাণু ফিসিলিটির উপর হামলা চালায়। আর রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদেও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে জোর বিতর্ক রয়েছে।
খতম করে দেওয়া হবে
এ দিন ট্রাম্পের 'খতম করে দেওয়া হবে' হুমকি নিয়েও মত প্রকাশ করেন ডাঃ আবদুল মাজিদ হাকিম ইলাহি। তিনি এই ধরনের হুমকিকে পাত্তা না দিয়েই বলেন, 'এটা নতুন কিছু নয়। আমরা আগেও এই ধরনের কথা শুনেছি। আমরা সবকিছুর জন্য তৈরি।'
আর এই বার্তার মাধ্যমেই ইরান বুঝিয়ে দিল যে তাঁরা ট্রাম্পের কথাকে খুব একটা পাত্তা দেন না।
আমেরিকা অস্ত্র মজুত করছে মধ্যপ্রাচ্যে
তবে ইরান যতই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাত্তা না দিক, ওদিকে নিজেদের ঘর গুছিয়ে চলেছে আমেরিকা। তাদের পক্ষ থেকে মিলিটারি প্রিপারেশন বা সামরিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই দক্ষিণ চিন সাগর থেকে শুরু করে সেন্ট্রাল কম্যান্ড রিজিওন, যার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য পড়ে, সেখানে আমেরিকা যুদ্ধবিমান বহনে সক্ষম যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করাছে। আর এই সব যুদ্ধ জাহাজের মধ্যে ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিঙ্কনও রয়েছে। পাশাপাশি জড় করা হচ্ছে সাবমেরিন।
যতদূর খবর, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান ইরানে যেন মাঝেমধ্যেই গুপ্ত হামলা চালানো হয়। তাই তিনি মিলিটারি থেকে শুরু করে সাইবার বিশেষজ্ঞদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। আর সেই কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।
ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে মতামত
ইরানে কিছু দিন ধরেই রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ চলছে। আর এই সেই বিক্ষোভের নিন্দা করেছেন ডাঃ আবদুল মাজিদ হাকিম ইলাহি। তিনি জানান, এই প্রতিবাদের মাধ্যমে হাসপাতাল, মসজিদ এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙা হয়েছে। যার ফলে মৃত্যু হয়েছে।
পাশাপাশি ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়েও মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর মতে, একাধিক বিদেশি গোষ্ঠীর থেকে দেশের নাগরিকদের রক্ষা করতেই ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।