
Bab el-Mandeb Strait crisis: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী(Strait of Hormuz) ঘিরে অস্থিরতা কারও অজানা নয়। এবার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, বাব এল-মাণ্ডেব(Bab el-Mandeb Strait)। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে এই প্রণালীও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর সেটা হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
হুথিদের হুঁশিয়ারি
ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী Houthi Movement সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে যেকোনও মুহূর্তে যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়তে প্রস্তুত। তাদের দাবি, পরিস্থিতি যদি আরও উত্তপ্ত হয় বা ইরানের উপর হামলা বাড়ে, তবে তারা গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে।
এই হুঁশিয়ারির পরেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি বাব এল-মান্দেবও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ?
বাব এল-মান্দেব প্রণালী লোহিত সাগরকে যুক্ত করেছে অ্যাডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের সঙ্গে। এই পথ দিয়েই জাহাজগুলি সুয়েজ খাল পেরিয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহণ করে। ফলে এই রুটে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের প্রায় ১২ শতাংশ বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহণ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়েই যায়। ফলে এই প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে জাহাজগুলিকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তের Cape of Good Hope ঘুরে যেতে হবে। এতে এক একটি যাত্রাপথে প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
আগেও হামলার নজির
হুথি গোষ্ঠী অতীতেও এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধের সময় বহু জাহাজের উপর ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ ওঠে।
এই হামলার জেরে বহু আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা বিকল্প রুট ব্যবহার করতে শুরু করে। ফলে পরিবহণ ব্যয় বাড়ে এবং পণ্য পৌঁছতে সময়ও বেশি লাগে।
বাণিজ্যে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি বাব এল-মান্দেবও কার্যত অচল হয়ে পড়ে, তবে বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। কারণ এই দুই সমুদ্রপথ মিলিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য পরিবহণ হয়।
এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে বলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত।
সংঘাত আরও বাড়তে পারে
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তবে বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠী নতুন নতুন ফ্রন্ট খুলতে পারে। ইরানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কয়েকটি সংগঠন ইতিমধ্যেই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে হুথি গোষ্ঠী তুলনামূলক ভাবে তাদের সামরিক শক্তি সংরক্ষণ করে রেখেছে। কিন্তু পরিস্থিতি বদলালে তারা গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে হামলা চালাতে পারে; এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন শুধু আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তা ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বিশ্ব অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
খবরটি ইংরাজিতে পড়ুন: CLICK HERE