
Bangladesh energy crisis 2026: যুদ্ধ পরিস্থিতির জের। বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা। প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী বাংলাদেশেও। জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় এবার আমেরিকার কাছে স্পেশাল ডিসকাউন্ট চাইল ঢাকা। রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় চেয়ে আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ। আর সেই আবেদনে উদাহরণ হিসেবে ভারতের নাম তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের দাবি, যেভাবে ভারতকে রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছাড় দেওয়া হয়েছে, ঢাকাকেও তেমনই দেওয়া হোক। সূত্রের খবর, এই মর্মে ইতিমধ্যেই আমেরিকার কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখন ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে হচ্ছে প্রশাসনকে। বাংলাদেশের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, প্রায় দুই মাসের প্রয়োজন মেটাতে তারা রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানি করতে চায়। সেই পরিমাণ সর্বোচ্চ ৬ লক্ষ মেট্রিক টন হতে পারে।
সরকারি আধিকারিকদের মতে, বিশ্ব বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য অস্থিরতাও সরাসরি প্রভাব ফেলে দেশের অর্থনীতি এবং দৈনন্দিন জীবনে।
এই পরিস্থিতিতে একাধিক দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে ঢাকা। আমেরিকা, রাশিয়া, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা এবং অস্ট্রেলিয়া; সব দিকেই নজর রাখছে তারা। একই সঙ্গে বিদ্যমান অংশীদারদের কাছ থেকেও আমদানি বাড়ানো হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে, এপ্রিল মাসে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ, যা মার্চ মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রেশনিং ব্যবস্থাও চালু করেছে সরকার। যদিও উৎসবের সময় কিছুটা শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই সঙ্কট মোকাবিলা করা যে কঠিন, তা স্বীকার করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব পরিস্থিতিও এই সঙ্কটকে আরও ঘনীভূত করছে। Strait of Hormuz-এ উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহণ হয়। সংঘাতের জেরে সেখানে চলাচল সীমিত হওয়ায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে এবং দাম বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও এই বিষয়ে দেশগুলিকে সতর্ক করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি বাজারে আরও ধাক্কা আসতে পারে। ফলে আমদানিনির্ভর দেশগুলির উপর চাপ আরও বাড়বে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের আবেদন কতটা গুরুত্ব পায়, সেটাই এখন দেখার। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আমেরিকা ছাড় দেয়, তাহলে সাময়িকভাবে হলেও জ্বালানি সঙ্কট কাটাতে সুবিধা হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প জ্বালানি ও স্বনির্ভরতার দিকেই নজর দিতে হবে বলেই মত তাঁদের।