Advertisement

Blue Sparrow: খামেনেই হত্যায় ইজরায়েলের আকাশ থেকে নেমে আসে ব্লু স্প্যারো, কী এই ক্ষেপণাস্ত্র? 

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ভয়াবহ এক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হন বলে আন্তর্জাতিক মহলে দাবি ওঠে। এই হামলায় ইজরায়েল অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্লু স্প্যারো’ ব্যবহার করেছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 06 Mar 2026,
  • अपडेटेड 3:23 PM IST
  • ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ভয়াবহ এক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হন বলে আন্তর্জাতিক মহলে দাবি ওঠে।
  • এই হামলায় ইজরায়েল অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্লু স্প্যারো’ ব্যবহার করেছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ভয়াবহ এক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হন বলে আন্তর্জাতিক মহলে দাবি ওঠে। এই হামলায় ইজরায়েল অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্লু স্প্যারো’ ব্যবহার করেছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এই অস্ত্রটি তৈরি করেছে ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা সংস্থা রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস। প্রযুক্তিগতভাবে এটি একটি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং অস্বাভাবিক কোণে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ফলে প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এটিকে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

ব্লু স্প্যারো আসলে কী?
ব্লু স্প্যারো মূলত আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক লক্ষ্য ক্ষেপণাস্ত্রের একটি পরিবারের অংশ। এই পরিবারের অন্য দুই সদস্য হল ব্ল্যাক স্প্যারো এবং সিলভার স্প্যারো। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত রকেটের সাহায্যে প্রথমে আকাশের অনেক উঁচুতে উঠে যায়। এরপর নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে মাধ্যাকর্ষণের টানে তা লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে আসে। অনেকটা আকাশে ছুঁড়ে দেওয়া বলের মতোই এর গতিপথ।

স্প্যারো সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত ইজরায়েল অ্যারো মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের অনুশীলনের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। অর্থাৎ এগুলোকে আকাশে ছুঁড়ে দেওয়া ‘ডামি হুমকি’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যাতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো অনুশীলন করতে পারে।

রাফায়েলের তথ্য অনুযায়ী, ব্লু স্প্যারোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬.৫১ মিটার এবং ওজন প্রায় ১৯০০ কেজি। এটি এক ধাপের কঠিন রকেট জ্বালানি ব্যবহার করে এবং GPS ও INS (Inertial Navigation System)-এর সমন্বিত নেভিগেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। INS এমন একটি প্রযুক্তি, যা বাহ্যিক সংকেতের ওপর নির্ভর না করেই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।

কীভাবে মহাকাশের কাছাকাছি গিয়ে আবার নেমে আসে?
ব্লু স্প্যারো সাধারণত একটি যুদ্ধবিমান থেকে উচ্চ আকাশে নিক্ষেপ করা হয়। এরপর ক্ষেপণাস্ত্রটি দ্রুত উপরের দিকে উঠে বায়ুমণ্ডলের প্রান্তসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। কিছুক্ষণ পর এর সামনের অংশটি আলাদা হয়ে যায়, যাকে রি-এন্ট্রি ভেহিকেল বলা হয়।

Advertisement

এই অংশটি প্রায় খাড়াভাবে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নেমে আসে এবং এর ভেতরে থাকা ছোট থ্রাস্টারগুলো তাকে সঠিক গতিপথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

এই প্রায় উল্লম্ব গতিপথই ব্লু স্প্যারোকে এত ভয়ংকর করে তোলে। অধিকাংশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি যে তারা দিগন্তের দিক থেকে আসা হুমকি শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু উপর থেকে শব্দের বহু গুণ গতিতে সোজা নেমে আসা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা এবং প্রতিরোধ করা অনেক বেশি কঠিন। ফলে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময়ও খুব কম পাওয়া যায়।

তেহরান হামলায় কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল?
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনায় গোটা শহর কেঁপে ওঠে। আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। ইজরায়েলি সেনাবাহিনী পরে জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত সামরিক অভিযান চালিয়েছে।

ইজরায়েল এই অভিযানের নাম দেয় 'অপারেশন রোরিং লায়ন', আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এটিকে বলা হয় 'অপারেশন এপিক ফিউরি'।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তেহরানের মধ্যাঞ্চলে নিজের বাসভবনের কাছেই খামেনির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ১ মার্চ তার মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয় এবং ইরানে ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৯ সাল থেকে খামেনি ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।

ব্লু স্প্যারো থেকে কীভাবে তৈরি হল আরও উন্নত অস্ত্র?
প্রথমদিকে ব্লু স্প্যারো ছিল মূলত একটি অনুশীলন ক্ষেপণাস্ত্র। তবে একই প্রযুক্তিকে ভিত্তি করে পরে রাফায়েল তৈরি করে ROCKS নামে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ-প্রস্তুত ক্ষেপণাস্ত্র।

এই ক্ষেপণাস্ত্র নিরাপদ দূরত্ব থেকে উৎক্ষেপণ করা যায় এবং অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম। এমনকি শত্রুপক্ষ যদি GPS সংকেত ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তবুও এটি লক্ষ্য ঠিক রাখতে পারে।

ROCKS দিনে বা রাতে, যে কোনও আবহাওয়ায় মাটির উপর কিংবা মাটির নিচে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এতে প্রায় ৫০০ কেজি পর্যন্ত ওয়ারহেড বহন করা যায় এবং লক্ষ্যবস্তুর মাত্র ৩ মিটারের মধ্যে আঘাত করার নির্ভুলতা রয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ব্লু স্প্যারো ছিল মূলত প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক রূপ। আর সেই প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়েই তৈরি হয়েছে আরও শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement