
২০২০ সালে গালওয়ানে ভারত ও চিন সংঘর্ষের কয়েক দিন পরই চিন গোপনে পরমাণু বোমা পরীক্ষা করেছিল। বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনল আমেরিকা। মার্কিন বিদেশ দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি থমাস ডিনান্নো জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক কর্মসূচিতে এই দাবি করেন। তারপর থেকেই বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
এক্স হ্যান্ডেলে ডিনান্নো জানান, বিশ্বের বাকি দেশগুলোর নজর বাঁচিয়ে চিন যে পরমাণু বোমা পরীক্ষা চালাতে পারে, এই তথ্য তাঁদের কাছে ছিল। ২২ জুন ২০২০ সালে চিন পরমাণু পরীক্ষা চালায়।
গালওয়ান সংঘর্ষের জেরে ভারতের ২০ জন জওয়ান শহিদ হন। চিনের আরও বেশি জওয়ান নিহত হন। তবে শি জিনপিংয়ের দেশ কোনও দিন আনুষ্ঠানিকভাবে মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। যদিও ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে সুস্থিরতা ফিরে আসে দীর্ঘ আলোচনার পর।
আমেরিকা এখন আরও দাবি করছে, চিন এই পরমাণু পরীক্ষা চালিয়েছিল সোপ নুর সাইটে। ভারতের সীমান্তবর্তী এই এলাকাটি জিনজিয়াং প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই পরমাণু পরীক্ষা করতে গিয়ে ডিকাপলিং কৌশল ব্যবহার করেছিল চিন।
এই ডিকাপলিং এমন একটা কৌশল যার মাধ্যমে মাটির কম্পন দমন করা যায়। কোনও বড় গহ্বরে বড়সড় বিস্ফোরণ হলেও তার জেরে তৈরি হওয়া কম্পন যাতে বোঝা না যায় বা ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেটাই নিশ্চিত করে ডিকাপলিং।
তবে গালওয়ান সংঘর্ষের কারণেই চিন যে এমন পরমাণু পরীক্ষা করেছিল, সেই দাবি করেনি আমেরিকা। তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, সেই সময় ভারত-চিন সংঘাত মারাত্মক ছিল। LAC বরাবর দুই দেশই সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছিল।
আবার আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের আর একটা অংশের মতে, সংঘর্ষের পরপরই এভাবে পরমাণু বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব নয়। সেজন্য অনেক আগে থেকে প্রস্তুতি দরকার। চিন হয়তো সেই পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই করেছিল। তারা গালওয়ানে সংঘর্ষ করে বিশ্বের চোখে ধুলো দিয়েছিল কেবল।