
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিরোধী তারা। আগে থাকতেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছিল চিন। এবার তারা সব পক্ষকে যুদ্ধ থামানোর আবেদন করল। শি জিনপিংয়ের লক্ষ্য আমেরিকাও। তাদেরও সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানায় চিন।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী নিয়ে সব দেশের কাছে আবেদন করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, সব দেশ হস্তক্ষেপ করলে তবেই ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খোলা থাকবে। তারই প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া দিল চিন। সব দেশকে যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয় তাদের তরফে।
ইরান ও ইজরায়েলের বিমান হামলার জবাবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লেগেছে। তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।
চিন জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই মাসের শেষ দিকে বেইজিং সফর নিয়ে আলোচনা চলছে।
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিজ জিয়ান বেইজিংয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, 'হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক উত্তেজনা পণ্য পরিবহন ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। আঞ্চলিক শান্তি ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
উত্তেজনা যাতে আরও না বাড়ে এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় প্রভাব না ফেলে, সে জন্য সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে।'
ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, চিন যদি হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে সহায়তা না করে তবে তাঁর বেইজিং সফর বিলম্বিত হতে পারে। এ বিষয়ে লিন জিয়ান বলেন, ট্রাম্পের চিন সফর নিয়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। তিনি যোগ করেন, রাষ্ট্রপ্রধানদের কূটনীতি চিন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ভূমিকা পালন করে।
রবিবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পশ্চিম এশিয়ার তেলের ওপর চিনের নির্ভরশীলতার কারণে নতুন একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগে বেইজিংকে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়।
এদিকে চীন আবার ইরানের ঘনিষ্ঠ। সেই দেশ থেকে তারা কম দামে তেল আমদানি করে। তারা খামেইনের মৃত্যুর সমালোচনা করেছিল।