Advertisement

Venezuela News: চিনে ভরসা করে ডুবল ভেনেজুয়েলাও! রেডার এড়িয়ে হাসতে হাসতে ঢুকল মার্কিন সেনা

পাকিস্তানের পর এবার ভেনেজুয়েলাকেও ডোবাল চিনা প্রযুক্তি(Chinese Tech)। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চিনে ভরসাই কি ভরাডুবির কারণ? মার্কিন সেনাকে ঠেকাতেই পারল না ভেনেজুয়েলার 'সবচেয়ে শক্তিশালী' এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক।

 মার্কিন সেনাকে ঠেকাতেই পারল না ভেনেজুয়েলার 'সবচেয়ে শক্তিশালী' এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক। মার্কিন সেনাকে ঠেকাতেই পারল না ভেনেজুয়েলার 'সবচেয়ে শক্তিশালী' এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 05 Jan 2026,
  • अपडेटेड 5:07 PM IST
  • পাকিস্তানের পর এবার ভেনেজুয়েলাকেও ডোবাল চিনা প্রযুক্তি(Chinese Tech)। 
  • প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চিনে ভরসাই কি ভরাডুবির কারণ?
  • মার্কিন সেনাকে ঠেকাতেই পারল না ভেনেজুয়েলার 'সবচেয়ে শক্তিশালী' এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক।

পাকিস্তানের পর এবার ভেনেজুয়েলাকেও ডোবাল চিনা প্রযুক্তি(Chinese Tech)। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চিনে ভরসাই কি ভরাডুবির কারণ? মার্কিন সেনাকে ঠেকাতেই পারল না ভেনেজুয়েলার 'সবচেয়ে শক্তিশালী' এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক। অভিযোগ, চিনে তৈরি অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থাই(Radar System) এই ব্যর্থতার মূল কারণ।

সূত্রের খবর, মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের 'অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভে' বিন্দুমাত্র বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি চিনা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। দুরন্ত অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে পাকড়াও করে মার্কিন বাহিনী। অভিযোগ, অভিযানের সময় মার্কিন হেলিকপ্টার এবং বিমান কোনও রকম বাধা ছাড়াই রাজধানী কারাকাসে ঢুকে পড়ে। কারণ একটাই; ভেনেজুয়েলার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছিল।

বিশেষত চিনে তৈরি JYL-1 লং ডিসট্যান্স 3D সার্ভেল্যান্স রেডার এবং JY-27A অ্যান্টি-স্টেলথ রেডারে একটিও মার্কিন বিমান বা হেলিকপ্টার ধরা পরেনি। এই রেডারগুলিকে ‘স্টেলথ হান্টার’ বলে প্রচার করা হত। দাবি করা হত, আধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমানও এদের চোখ এড়াতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবে মার্কিন ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের সামনে কার্যত অন্ধ হয়ে যায় এই রেডারগুলি।

ভেনেজুয়েলার এয়ার ডিফেন্সে ঠিক কী ছিল?
ভেনেজুয়েলা চিনের ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপের কাছ থেকে একাধিক রাডার সিস্টেম কিনেছিল। তার মধ্যে JYL-1 ছিল ৩০০ থেকে ৪৭০ কিলোমিটার রেঞ্জের একটি দীর্ঘপাল্লার থ্রিডি রাডার, যা আকাশসীমা নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হত। অন্য দিকে, JY-27 ও তার উন্নত সংস্করণ JY-27A ছিল মিটার-ওয়েভ ব্যান্ডের রাডার। দাবি করা হয়েছিল, এই রাডার স্টেলথ বিমান; যেমন মার্কিন F-35; শনাক্ত করতে সক্ষম। ডিটেকশন রেঞ্জ বলা হয়েছিল ৩০০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার।

এই চিনা রাডারগুলির সঙ্গে ভেনেজুয়েলার এয়ার ডিফেন্সে ছিল রুশ তৈরি S-300 এবং Buk-M2 ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা বলেই প্রচার করা হত এই নেটওয়ার্ক। এমনকি চিনা সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, এই রাডার ৭৫ কিলোমিটার দূর থেকেই মার্কিন F-35 ট্র্যাক করতে পারে। কিন্তু মার্কিন হামলার সময় সেই সব দাবি ফাঁপা প্রমাণিত হয়।

Advertisement

অভিযোগ, মার্কিন বাহিনী EA-18G গ্রাউলার-এর মতো অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমান ব্যবহার করে ব্যাপক জ্যামিং চালায়। ফলে শুরুতেই রাডার সিস্টেম প্যারালাইজ হয়ে যায়। প্রথম দফার আঘাতেই ভেঙে পড়ে গোটা এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক।

এই ব্যর্থতা নতুন নয় বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের। পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা টানছেন অনেকে। ২০২৫ সালে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারত যেভাবে পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ভেঙে দিয়েছিল, তার সঙ্গেই মিল খুঁজে পাচ্ছেন তাঁরা। সেই সময় পাকিস্তানের চিনা সরবরাহ করা HQ-9, LY-80-সহ একাধিক রাডার ও ডিফেন্স সিস্টেম ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। লাহোর-সহ বিভিন্ন জায়গায় রাডার সাইট ধ্বংস করে ভারতীয় বাহিনী।

পাকিস্তান, বাংলাদেশ, একাধিক আফ্রিকান দেশ এবং এ বার ভেনেজুয়েলা; সব ক্ষেত্রেই চিনা অস্ত্র ব্যবস্থার ব্যর্থতার একটি নির্দিষ্ট ধারা স্পষ্ট হচ্ছে বলে মত প্রতিরক্ষা মহলের। অভিযোগ, বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন বা ভারতীয় ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের সামনে এই প্রযুক্তি টিকতে পারছে না।

কেন বার বার ব্যর্থ হচ্ছে চিনা রাডার? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, উন্নত ইলেকট্রনিক জ্যামিং। আমেরিকার মতো দেশের হাতে এমন প্রযুক্তি রয়েছে, যা রাডার সিগন্যাল কার্যত ব্লক করে দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, অনেক দেশের ক্ষেত্রে অপারেটরদের প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব। তৃতীয়ত, বাস্তবের সঙ্গে চিনা প্রচারের ফারাক। কাগজে-কলমে বড় বড় দাবি থাকলেও, যুদ্ধক্ষেত্রে সেই প্রযুক্তি দুর্বল প্রমাণিত হচ্ছে।

এই ঘটনার পর চিনা সামরিক সরঞ্জামের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘কবাড়’-এ পরিণত হয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। পাকিস্তানের মতো এখানেও চিনা প্রযুক্তি যে বড়সড় হতাশা দিয়েছে, তা স্পষ্ট। ভবিষ্যতে এই ধরনের অস্ত্র কেনার আগে অনেক দেশই যে দু’বার ভাববে, তা বলাই বাহুল্য।

Read more!
Advertisement
Advertisement