
পাকিস্তানে হু হু করে জ্বলছে গৃহযুদ্ধের দাবানল। বালোচিদের আক্রমণে কার্যত ছেঁড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা পাক সেনার। দাবি করা হচ্ছে, শনিবারই এযাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে বালোচ লিবারেশন আর্মির সদস্যরা। যার জেরে কমপক্ষে ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে বালোচি বিদ্রোহীরা। যদিও পাক প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বালোচদের হামলায় প্রায় ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বালোচদের তরফে এই অপারেশনের নাম দেওয়া হয়েছে হেরোফ বা 'কালো ঝড়'।
তবে বালোচদের এই হামলার পর কড়া মোডে রয়েছে পাক সেনাও। রবিবারই বিদ্রোহীদের উপর হামলা চালিয়ে প্রায় ১৪৫ জন বালোচকে খুন করে পাক সেনা। ফলে এই মুহূর্তে পাকিস্তান দাঁড়িয়ে রয়েছে গৃহযুদ্ধের মধ্যে। বালোচ ও পাক সেনা দু'পক্ষের দাবি সত্যি বলে ধরা হলে শনি ও রবিবার মিলে পাকিস্তানে প্রায় ৩৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কী ভাবে হামলা চালিয়েছিল বালোচরা?
কুয়েটা, গওয়াদর, মাসতুং ও নোশকি জেলায় ‘অপারেশন হেরোফ (Phase II)’-এর অংশ হিসেবে পাক নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালানো হয়। বালোচ লিবারেশন আর্মি একযোগে দফায় দফায় হামলা চালায়। পাকিস্তানের মাস্তুং জেলার একটি কারাগার থেকে প্রায় ৩০ জনেরও বেশি বন্দিকে পালাতে সাহায্য করে বালোচ বিদ্রোহীরা। আবার হামলা চালানো হয়েছে নুকশির আধাসামরিক বাহিনীর দফতরেও। যাবতীয় হামলার দায় স্বীকার করেছে BLA। দু'জন আত্মঘাতী মহিলার ভিডিও-য় পোস্ট করা হয়েছে।
আর এরপরেই পাকিস্তানি সেনা অভিযানে নামে। টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযান চালানোর পর পাক সেনা প্রায় ১৪৫ জন বিদ্রোহীকে নিকেশ করে বলে দাবি।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বৃহত্তম এবং দরিদ্রতম প্রদেশ হল বেলুচিস্তান। স্বায়ত্ত্বশাসন ও প্রাকৃতিক সম্পদের বৃহত্তর অংশের দাবিতে বালুচ বিদ্রোহীরা গত কয়েক দশক ধরেই আন্দোলন চালাচ্ছে। বালুচিস্তানকে পাকিস্তানের থেকে বিচ্ছিন্ন করতে সচেষ্ট BLA সংগঠনটি। কিন্তু গত এক বছরে আন্দোলনের ঝাঁঝ বহুগুণ বেড়েছে। বালোচ আর্মিদের আক্রমণে একাধিকবার পিছু হটতে হয়েছে পাক সেনাকে। আর শনিবার এযাবৎকালের মধ্যে সব থেকে বড় হামলা চালাল বালোচ বিদ্রোহীরা।