Advertisement

Donad Trump Aspirin Ovrdose: অ্যাসপিরিনের ওভারডোজেই কি ডোনাল্ড ট্রাম্প এরকম করছেন? উঠছে গুরুতর প্রশ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণ গোটা বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কখনও অপ্রত্যাশিত মন্তব্য, কখনও বিশ্বনেতাদের প্রকাশ্যে উপহাস, আবার কখনও কথার অবস্থান বদল, সব মিলিয়ে তাঁর আচরণ অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।-ফাইল ছবিমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।-ফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 10 Jan 2026,
  • अपडेटेड 1:05 PM IST
  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণ গোটা বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
  • কখনও অপ্রত্যাশিত মন্তব্য, কখনও বিশ্বনেতাদের প্রকাশ্যে উপহাস, আবার কখনও কথার অবস্থান বদল, সব মিলিয়ে তাঁর আচরণ অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণ গোটা বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কখনও অপ্রত্যাশিত মন্তব্য, কখনও বিশ্বনেতাদের প্রকাশ্যে উপহাস, আবার কখনও কথার অবস্থান বদল, সব মিলিয়ে তাঁর আচরণ অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্পের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি তাঁর মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তনের পেছনে কি কোনও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কাজ করছে? বিশেষ করে আলোচনায় এসেছে অ্যাসপিরিনের অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণের বিষয়টি।

জানা গিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন উচ্চ মাত্রায় অ্যাসপিরিন সেবন করে আসছেন। অ্যাসপিরিন মূলত মাথাব্যথা, দাঁতের ব্যথা বা শরীরের যন্ত্রণা কমানোর জন্য ব্যবহৃত হলেও, এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল রক্ত পাতলা করা। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে অনেক ক্ষেত্রেই এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মাত্রায় দীর্ঘদিন অ্যাসপিরিন গ্রহণ শরীরের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনই মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকার সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ট্রাম্প প্রতিদিন ৩২৫ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিন খান, যা সাধারণভাবে সুপারিশকৃত ডোজের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। চিকিৎসকরা নাকি একাধিকবার তাঁকে ডোজ কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু তিনি সেই পরামর্শ মানতে রাজি হননি। ট্রাম্প নিজে অবশ্য এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, 'আমি চাই না আমার শরীরে ঘন রক্ত চলাচল করুক, তাই আমি অ্যাসপিরিন খাই।'

বর্তমানে ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প দীর্ঘস্থায়ী শিরাস্থ অপ্রতুলতা (ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি) রোগে ভুগছেন। এই রোগে শিরাগুলির পক্ষে হৃদপিণ্ডে রক্ত ফেরত পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাঁর হাতে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যাও দেখা গিয়েছিল, যা চিকিৎসকদের মতে অতিরিক্ত করমর্দন ও নিয়মিত উচ্চ মাত্রার অ্যাসপিরিন গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

এক দশক আগেও চিকিৎসাবিজ্ঞান মনে করত, যাঁদের হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে তাঁদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খাওয়া হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু ২০১৮ সালে প্রকাশিত একাধিক বড় গবেষণায় সেই ধারণায় পরিবর্তন আসে। গবেষণায় দেখা যায়, যাঁদের হৃদরোগের কোনও পূর্ব ইতিহাস নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়মিত অ্যাসপিরিন বিশেষ উপকার করে না; বরং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রক্তপাত, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

Advertisement

শুধু শারীরিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই নয়, বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে অ্যাসপিরিনের অতিরিক্ত মাত্রা মানসিক অবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি বিষণ্নতা বাড়াতে পারে, সঙ্গে দেখা দিতে পারে উদ্বেগ, অস্থিরতা, বিভ্রান্তি এবং প্যারানয়ার মতো উপসর্গ। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণ, হঠাৎ রেগে যাওয়া, অস্বাভাবিক মন্তব্য, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বা সন্দেহপ্রবণতা, এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী, আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজি ও আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতো সংস্থাগুলি ৬০ বা ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে হৃদরোগ প্রতিরোধে নিয়মিত অ্যাসপিরিন সেবনের পরামর্শ দেয় না, যদি না তাঁদের আগে হার্ট অ্যাটাক, ইস্কেমিক স্ট্রোক বা পেরিফেরাল ধমনী রোগের ইতিহাস থাকে। লস অ্যাঞ্জেলেসের চিকিৎসক ডাঃ জন মাফেইও স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রতিদিন অ্যাসপিরিন কেবল নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

অ্যাসপিরিন রক্তের প্লেটলেটের কাজকে বাধা দেয়, ফলে রক্ত জমাট বাঁধা কমে। এতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমলেও, অভ্যন্তরীণ রক্তপাত, বিশেষ করে পেট বা মস্তিষ্কে, হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। বয়স যত বাড়ে, এই ঝুঁকিও তত বাড়ে।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের কার্ডিওভাসকুলার পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক। যদিও তাঁর ধমনীতে কিছু প্লাক রয়েছে, যা তাঁর বয়সী পুরুষদের মধ্যে সাধারণ। তবে ট্রাম্প নিজে মনে করেন, অতিরিক্ত স্বাস্থ্যপরীক্ষা তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement