
ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাস্থ্য ও মানসিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিনকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে নিজের প্রয়াত পিতার স্বাস্থ্যের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছিলেন তিনি। কিন্তু অ্যালঝাইমার্স রোগের কথা বলতে গিয়ে হিমশিম খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে জোর দিয়ে বলেন, 'স্মৃতি এবং চিন্তাশক্তি ধ্বংসকারী এই রোগ নিয়ে আমি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নই।'
পরিবারের মেডিক্যাল হিস্ট্রি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে গিয়ে ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প মাঝপথে থেমে যান। বাবা ফ্রেড ট্রাম্পের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'বাবা এমন একজন মানুষ ছিল, যাঁকে কথনও থামানো যেত না। প্রায় কোনও স্বাস্থ্য সমস্যাই ছিল না তাঁর। তবে একটি বাদে। একটা নির্দিষ্ট বয়সে ৮৬, ৮৭ বছর বয়সে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।' এরপরই রোগের নাম বেমালুম ভুলে যান তিনি। বলতে থাকেন, 'কী যেন বলে ওই রোগটাকে...।' দিশেহারা হয়ে এদিক-ওদিক চাইতে শুরু করেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিয়েটের দিকে তাকান। তিনি ট্রাম্পকে ধরিয়ে দিয়ে বলেন, 'অ্যালঝাইমার্স।'
প্রেস সেক্রেটারির কথা ধার করে ট্রাম্প আবার বলতে শুরু করেন, 'অ্যালঝাইমার্স টাইপের কিছু একটা ছিল বাবা। আমার সেটা নেই।' তবে এই রোগ বংশগত ভাবে উত্তরাধিকার সূত্রে আসতে পারে। এ নিয়ে অবশ্য বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন নন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অ্যালঝাইমার্স সম্পর্কে বলেন, 'না আমি এসব নিয়ে একেবারেই ভাবি না।'
উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্কের খ্যাতনামা রিয়াল এস্টেট ডেভেলপার ফ্রেড ট্রাম্প ন'য়ের দশকের শুরুতে অ্যালঝাইমার্স রোগে আক্রান্ত হন। ১৯৯৯ সালে ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যুর আগে কয়েক বছর এই রোগের সঙ্গে লড়াই করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেও তাঁর বাবার রোগ নির্ণয়ের কথা স্বীকার করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকার হু হু করে ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সমালোচকরা প্রশ্ন তোলেন, 'এই থমকে যাওয়া কি সাধারণ কথাবার্তার ভুল, নাকি বৃহত্তর কোনও মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত?' অন্যদিকে, সমর্থকরা একে আনস্ক্রিপটেড কথাবার্তার বিরতি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এই ঘটনা আমেরিকায় প্রবীণ রাজনৈতিক নেতাদের মানসিক সক্ষমতা নিয়ে বাড়তে থাকা নজরদারির প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদে সর্বোচ্চ প্রবীণ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার নিজের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, 'আমার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য চমৎকার। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় আমি দারুণ ভাবে উত্তীর্ণ হয়েছি।' সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাঁর কর্মক্ষমতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'আমি ৪০ বছর আগের মতোই অনুভব করি।'
হোয়াইট হাউস দ্রুতই উদ্বেগ প্রশমিত করার চেষ্টা করেছে। কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চিয়ং এক বিবৃতিতে বলেন, 'প্রেসিডেন্ট মানসিক ও শারীরিক সম্পূর্ণ ভাবে সুস্থ। কর্মনিষ্ঠ তিনি। অনেকের থেকে বেশি কাজের গতি রয়েছে তাঁর।'
কয়েক সপ্তাহ আগে একটি স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, 'হোয়াইট হাউসের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন,আমি পারফেক্ট হেলথে আছি। টানা তৃতীয়বার আমার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জিজ্ঞেস করা সমস্ত প্রশ্নের ১০০% উত্তর দিতে পেরেছি। যা কোনও পূর্বতন প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট করতে রাজি হননি।'
সাম্প্রতিক মাসগুলিতে প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে নজরদারি আরও বেড়েছে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে গিয়ে হোঁচট খাওয়া, দীর্ঘ ক্যাবিনেট বৈঠকে তন্দ্রাচ্ছন্ন দেখানো, হাতে অজানা ক্ষতচিহ্ন, গোড়ালিতে ফোলা, জনসমক্ষে সংক্ষিপ্ত অনুপস্থিতির মতো একাধিক ঘটনার পর অনলাইনে ব্যআপক জল্পনা ছড়ায়। একসময় অগাস্ট মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প ইজ ডেড ট্রেন্ড করতে শুরু করেছিল। যার জেরে হোয়াইট হাউসকে ব্যক্তিগত ভাবে আশ্বস্ত করতে হয়, ট্রাম্প জীবিত আছেন।